নীল বণিক
মোদীর জোড়া সভায় ঘুম ছুটেছে তৃণমূলের। ঠাকুরনগর আর দুর্গাপুরে মোদীর সভায় জনসমাগমের হিসেব নিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে তৃণমূল ভবনে। এমনকি বিজেপির দুই সভায় এত লোক হল কী করে হলো তারও বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা নেতৃত্বের কাছে। দলীয় সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে দুই জেলাই জানিয়েছে, ছোট মাঠে সভা হয়েছে। তাই এত ভিড় বলে মনে হয়েছে। কিন্তু, সংবাদমাধ্যমে ভিড়ের ছবি দেখে, জেলা নেতাদের এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছেন না খোদ তৃণমূল নেত্রীই। সূত্রের খবর, মোদির সভার পরই স্থানীয়স্তরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব মিছিল করেছেন। কিন্তু, এমন উদ্যোগ দুর্গাপুরের সভার পরও কেন পশ্চিম বর্ধমানে দেখা গেল না, সেই প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরেই।
সূত্রের খবর, মোদী জোর করে ঠাকুরবাড়িতে যেভাবে বীণাপাণিদেবীর সঙ্গে দেখা করেছেন, তাতে বেশ ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু, তার ঠিক পরই দলীয় সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর যেভাবে ‘বড়মা’কে বিজেপি শিবির থেকে হাইজ্যাক করে নিয়েছেন, তাতে খুশি হয়েছেন মমতা। দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমানে শতায়ু বীণাপাণিদেবী কাউকেই প্রায় চিনতে পারেন না। যখন তিনি পারতেন তখনও, বিবদমান দুই ছেলের পরিবারের সকলে একইসঙ্গে মন রাখার চেষ্টা করতেন। বীণাপাণিদেবীর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওয়াকিবহাল। কিন্তু, তার পরও তৃণমূল শিবির যেভাবে অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বীণাপাণিদেবীর সঙ্গে মোদীর সাক্ষাতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হয়েছেন বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।
তৃণমূল ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক এবং শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া, দলের কোনও নেতার সভায় তেমন একটা ভিড় হচ্ছে না। তার ওপর গোয়েন্দারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খবর দিয়েছেন যে, বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা কংগ্রেস এবং বিজেপির সঙ্গেও কথা বলে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো, মোদি-অমিত-যোগীদের বাংলার ভোটভূমে নামিয়ে দিয়েছে বিজেপি। যার সঙ্গে টক্কর দিতে ফের একটা ব্রিগেড, বিকল্প হিসেবে প্রত্যেক জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা আয়োজনের মধ্যে যে কোনও একটা রণকৌশল গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা চলছে কালীঘাট এবং তৃণমূল ভবনে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news