চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
দিল্লির বাংলো হাত ছাড়ার হওয়ার পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢরার নতুন ঠিকানা হতে চলেছে লখনউ। প্রিয়াঙ্কা যদি সত্যিই লখনউয়ে স্থায়ীভাবে বাসস্থান বদল করেন তবে নিজের কাকা সঞ্জয় গাঁধীকে অনুসরণ করেই তাঁকে চলতে হবে। ১৯৮০ সালে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে যে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন সঞ্জয় গাঁধী, সে পথেই চলতে হবে প্রিয়াঙ্কাকেও। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কংগ্রেস পার্টি বা প্রিয়াঙ্কার পক্ষে তা অত সহজ হবে না।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস একেবারে রুগ্ন ও শক্তিহীন। তবে প্রিয়াঙ্কা পুরোপুরি দলের হাল ধরলে সে অবস্থা থেকে ফিরে আসবে বলেই ধারণা কংগ্রেস নেতাদের। এ প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম টুইট করে বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় স্তরে কংগ্রেস আবার জেগে উঠবে। এই কথার সুস্পষ্ট অভিপ্রায় হল উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রিয়াঙ্কার নাম ঘোষণা করা। প্রিয়াঙ্কাকে অব্যশই লখনউয়ে থাকতে এবং দলের দায়িত্ব নিতে হবে।” তবে এই নিয়ে কংগ্রেস শিবিরের ব্যাখ্যা, কংগ্রেস যদি সত্যিই উত্তরপ্রদেশ সাফল্য পেতে চায় তবে প্রিয়াঙ্কাকে তাঁর কাকাকে অনুসরণ করতে হবে।

ইউপিতে জয় পেতে হলে এখন থেকেই প্রিয়াঙ্কাকে স্থায়ীভাবে লখনউতে থাকতে হবে। ভোটের সময় এসে আবার ভোটের পর চলে গেলে হবে না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে বর্তমান কংগ্রেস নেতৃত্বকে। কিভাবে ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গাঁধীর সময় উত্তরপ্রদেশে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয়ী করেছিলেন সঞ্জয় গাঁধী। সেই সময় ইউপিতে ইন্দিরাকে পিছন থেকে সাহায্য করে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে জয় নিয়ে এসেছিল সঞ্জয় গাঁধী। নব নির্বাচিত বিধায়করা সঞ্জয়কে সিএলপি নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য প্রস্তাব পাশ করেন। কিন্তু সঞ্জয় তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভিপি সিংহকে মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত করেন। তারপর মা ইন্দিরা গাঁধীকে সাহায্য করার জন্য দিল্লিতে ফিরে আসার ১৪ দিন পরে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সঞ্জয় গাঁধী।

এরপর ইন্দিরা গাঁধীর মৃত্যু হয়। সেই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ইউপিতে বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে ক্ষমতা দখল করেন রাজীব গাঁধী। ১৯৮৯ সালে রাজীবের হত্যার পর থেকে ইউপিতে ব্রাত্য হয়ে যায় কংগ্রেস। তারপর সনিয়া গাঁধীর ১৮ বছরের সময় কালে ইউপি অধরা রয়ে যায় কংগ্রেসের কাছে। এমনকি প্রথমবার ২০০৪ সালে অমেঠিতে থেকে পরাজিত হন রাহুল গাঁধী। এরপর ২০১৭ সালের বিধানসভা ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটির আবির্ভাব হয় ইউপিতে। কিন্তু তারপরেও জয় থাকে অধরা। এ ছাড়া নরসিমহা রাও ও সীতারাম কেশরীর সময়কালেও কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে ইউপি।

বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতাদের ধারণা, উত্তরপ্রদেশে জয় পেতে হলে সেখানে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে সঞ্জয় গাঁধীর মতো। দিল্লির মোহ ত্যাগ করতে হবে। আর সেটা যদি করতে পারেন প্রিয়াঙ্কা, তবেই হিন্দি বলয়ের সবথেকে বড় রাজ্যের বিশ্বাসযোগ্য মুখ হয়ে উঠবেন তিনি। এ ছাড়া প্রিয়াঙ্কার কাছে আরও একটি সুবিধা হল বাসস্থান হিসেবে তিনি লখনউয়ের গোখলে রোডে ইন্দিরা গাঁধীর মামিমা প্রয়াত শীলা কলের বাড়িটিকে বেছে নিয়েছে। এরফলে ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ইন্দিরার উত্তরসূরী হিসেবে মানুষের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রসঙ্গত, বুধবার প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢরাকে এক মাসের মধ্যে দিল্লির সরকারি বাংলো ছেড়ে দেওয়ার নোটিস দিয়েছে কেন্দ্রের আবাসক মন্ত্রক। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রতিশোধমূলক রাজনীতি হিসেবে দেখছে কংগ্রেস। তবে এসপিজি (SPG) আইন মোতাবেক আগেই ৩৫ লোদী এস্টেটের ৬বি টাইপ বাংলো ছাড়ার কথা ছিল প্রিয়াঙ্কার। কিন্তু এতদিন নির্দেশ না আসায় তিনি সেখানেই ছিলেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news