Breaking News
Home / TRENDING / মানুষের সন্ধানে ঈশ্বর

মানুষের সন্ধানে ঈশ্বর

পার্থসারথি পাণ্ডা

মানুষ যেমন ঈশ্বরকে পাওয়ার সাধনা করেছেন চিরকাল, তেমনি দেব-দেবীরাও মানুষকে পাওয়ার সাধনা করেছেন। মানুষের মাঝে থাকে অনেকখানি লোভ আর সামান্য মোক্ষ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, দেবী-দেবীদের থাকে মর্তে পুজো পাওয়ার, পুজো প্রচারের প্রত্যাশা। দেব-দেবীদের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এই পূজা প্রচারের জন্য তাঁরা বার বার বেছে নিয়েছেন কোনও রাজা, জমিদার কিম্বা সমাজের প্রধান কোনও ব্যক্তিকে। কারণ, সমাজপতি ও নৃপতির কথাই সাধারণের কাছে শেষ কথা, তাঁরা যার আরাধনা করেন, প্রজাসাধারণ তাঁকেই আরাধ্য বলে মেনে নেন। তাই বঙ্গে দুর্গাপূজার প্রসার ঘটেছিল রাজা সুরথের হাত দিয়ে, কালীপূজার প্রসার ঘটেছিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত দিয়ে, মনসাপূজার প্রসার ঘটেছিল ধনী চাঁদ সদাগরের হাত দিয়ে, কলিঙ্গে জগন্নাথদেবের পূজার প্রসার ঘটেছিল রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের হাত দিয়ে। শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ, বুদ্ধ, মহাবীর প্রভৃতি সমস্ত অবতারেরাই জন্ম নিয়েছেন রাজপরিবারে। এমনকি লৌকিক যে দেবী ভাদু, টুসু—তাঁরাও রাজকুমারী বা রাজকন্যা বলে লোকশ্রুতি থেকে জানা যায়। ব্রতকথার গল্পগুলোতেও দেখা যায় যে, দেবদেবীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বণিক পরিবারে কৃপা করে বৃহত্তর জনসমাজের কাছে পৌঁছতে চেয়েছেন।

কবি কালিদাস রায় ‘চাঁদ সদাগর’ কবিতায় লিখেছিলেন—‘মানুষই দেবতা গড়ে/ তাহারই কৃপার পরে/ করে দেব মহিমা নির্ভর’। তাই ঈশ্বরকে বার বার মানুষের কাছে আসতে হয়। অন্যদিকে ‘দেব মহিমা’ নির্ভরতার জন্য মানুষকেও ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর সাধনা করতে হয়। এখানেই মানুষের জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্ব আর ঈশ্বরের জন্য মানুষের অস্তিত্ব—একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। মা-বাবা যেমন সন্তানের জন্ম দেন, তাকে লালন-পালন করেন, তার বড় হয়ে ওঠা, মান-সম্মানে খ্যাতিমান হয়ে ওঠার নেপথ্যে থাকেন, তারপর কর্মক্ষমহীন হয়ে পড়লে তাঁরা সেই সন্তানের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েন—ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটাও সেরকমই।

বৈদিক যুগের নিরাকার ব্রহ্ম-উপাসনার স্তর পেরিয়ে ইশ্বর যখন রূপে এসে ধরা দিলেন, তখন তাঁদের মূর্তি নির্মিত হল। সেই মূর্তি আকারে-প্রকারে হল মানুষেরই মতো, কারণ, সেই মূর্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে অন্য কোন মডেল তাদের কাছে ছিল। মানুষের কল্পনা বাস্তব ছুঁয়েই তো অধিবাস্তবের দিকে এগিয়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই। এই মূর্তি নির্মাণের আদিভাবটি ধরা পড়ে নদিয়ার কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের ঘুঁটে দিতে থাকা একটি নারীকে দেখে দেবী কালিকার মূর্তি গড়ার গল্পে। যাই হোক, দেব-দেবীরা মানুষের আকার নিয়ে যখন মূর্তিরূপে আমাদের ঠাকুরঘরে অধিষ্ঠিত হলেন, তখন থেকেই শুরু হল তাঁদেরকে আমাদের ঘরের মানুষ করে তোলার প্রক্রিয়া। সংসারের কর্তাকে না-খাইয়ে আদি একান্নবর্তী পরিবারে যেমন আর সকলের অন্নগ্রহণের রেওয়াজ ছিল না, সেভাবেই বিধান গড়ে উঠল গৃহদেবতাকে ভোগ নিবেদন না করে অন্নগ্রহণ করা যাবে না। এভাবেই গৃহদেবতা হয়ে ওঠেন গৃহকর্তা। গেরস্তের ঘরে আশ্রয় পেয়ে, তিনিই হয়ে উঠলেন গেরস্তের আশ্রয়। ঈশ্বরের ইচ্ছাই গেরস্তের ইচ্ছে হয়ে উঠল। সেই ইচ্ছের নাম দেওয়া হল, ‘অদৃষ্ট’। মানুষই দিল। সৃষ্টি হল, সেই অদৃষ্টের লেখক ‘বিধাতা’র। এভাবেই পথ পরিক্রমণের ধারায় বারে বারেই তাঁদের অস্তি নিয়ে, অস্তিত্ব নিয়ে ঈশ্বর এবং মানুষ ঘুরে ফিরে একে অপরের দরজায় এসে দাঁড়ান…

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *