নীল রায়
যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিতে আসছেন লোকসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। কংগ্রেস বা তৃণমূল কোনও পক্ষই বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও এমনটাই দেখা যাবে ১৯ জানুয়ারীর সমাবেশে, জানাচ্ছে দিল্লির রাজনৈতিক মহলের বিশ্বস্থ একটি সূত্র। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছে, তারপরে কি রাহুল গাঁধী তৃণমূলের রাজনৈতিক সমাবেশে তাদের প্রতিনিধি পাঠাবেন? কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে পোড় খাওয়া মমতা কখনও এআইসিসি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কে বৈরিতা আনেননি। যখনই দিল্লি সফরে গিয়েছেন, তখনই নিয়ম করে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেছেন সোনিয়া গাঁধীর সঙ্গে। ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি লগ্ন থেকেই কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছিলেন প্রকাশ্যেই। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সোনিয়া গাঁধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেলের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন মমতা। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন আন্তরিক আমন্ত্রণ ফেরাতে চায়নি এআইসিসি। জাতীয় রাজনৈতিক মহল অবশ্য বিষয়টি শুধুমাত্র মমতা বা তৃণমূলের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখতে নারাজ। তাদের মতে, লোকসভা ভোটের পর কংগ্রেস যদি বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হয়, অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে থাকে। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস সহ দেশের অন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলির প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্রিগেড সমাবেশের সমীকরণ কাজে আসতে পারে কংগ্রেসের পক্ষে। তাছাড়া ২০০৯-১২ অবধি মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ইউপিএ সরকারে সামিল ছিল। তাই আবারও মমতাকে কংগ্রেসের জোটে ফেরানোর রাস্তাও খোলা রাখতে চান রাহুল-সোনিয়া। এছাড়াও, মমতা দাবি করেছে, প্রায় ২০টি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল ব্রিগেড সমাবেশে হাজির হতে পারে। এমতাবস্থায় কংগ্রেস ছাড়া সব বিজেপি বিরোধী শক্তি যদি ব্রিগেডের মঞ্চে দাড়িয়ে মোদী সরকারকে হঠানোর ডাক দেয়। তাহলে কংগ্রেসের বিজেপি বিরোধী লড়াইও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে মার খাবে। তাই সবদিক বিবেচনা করেই তৃণমূহ ব্রিগেড সমাবেশে বিরোধী দলনেতাকে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে এআইসিসি। শীর্ষ নেতৃত্ব যাই মনে করুক, বাংলার কংগ্রেস নেতারা চান না দিল্লির কোনও নেতা ১৯ জানুয়ারীর ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিন। তাদের যুক্তি, দিল্লির নেতারা তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিলে রাজ্য কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে কর্মী সমর্থকদের লড়াই মাঠে মারা যাবে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোট ও সংগঠন দুইই বাড়াবে বিজেপি। তারা অবশ্য নিজেদের আপত্তির কথা বহু আগেই এআইসিসিতে জানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্বের আপত্তিকে উপেক্ষা করেই ব্রিগেডের সভায় আসবেন রাহুল গাঁধী ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news