প্রসেনজিৎ মাহাতো
কুরাসাও ৩( বোনাভাসিয়া, ওহুই, বাকুনা) ভারত ১( সুনীল-পেনাল্টি)
ইগর স্টিম্যাকের কোচিংয়ে জিতে শুরু করতে চেয়েছিলেন সুনীলরা। সে লক্ষ্যপূরণ হল না। বুধবার বুরিরামের চ্যাং এরিনায় কিংস কাপের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের কাছে ১-৩ গোলে হারল ভারতীয় ফুটবল দল। বিজয়ী দলের পক্ষে ১৫, ১৮ ও ৩৪ মিনিটে গোল করেন বোনাভাসিয়া, ওহুই, বাকুনা। কুরাসাও চলে গেল ফাইনালে। সুনীলদের এখন ৮ জুন তৃতীয় স্থান নির্ধারনের ম্যাচে খেলতে হবে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের বিজয়ীর বিরুদ্ধে। সান্ত্বনা একটাই দেশের জার্সিতে রেকর্ড ১০৮ নম্বর ম্যাচ খেলার দিনে ৩১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সুনীলের ৬৮ গোল। এই হারের মাঝেও অবশ্য ভারতীয় ফুটবলে ভবিষ্যৎ সাফল্যের সোনালী রেখা দেখতে পাচ্ছেন জাতীয় কোচ ইগর স্টিম্যাক। আসলে আগের কোচ স্টিফেন অনেকদিন ধরে একদল নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার সুফল মিলেছিল এশিয়ান কাপে। সেখানে স্টিম্যাকের কাছে ভারতীয় এই দলটা একেবারে নতুন। কিংস কাপের জন্য প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১০ দিন। ফুটবলারদের ক্ষমতা বোঝার আগেই কুরাসাওয়ের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়েছেন স্টিম্যাক। ফুটবলারদের তাঁর নতুন সিস্টেমের সঙ্গে রপ্ত করানোর পাশাপাশি বোঝাপড়া গড়ে তোলার সমস্যা তো ছিলই, একইসঙ্গে অফ সিজনে ফুটবলাররা বিশ্রামে কাটানোয় ফিটনেসের অভাবটা ধরা পড়েছে খেলায়। তবু স্টিম্যাক নতুন মুখকে সুযোগ দিতে পিছপা হননি। প্রথম একাদশে রাহুল বেকে, ব্রান্ডন, আব্দুল সাহালকে অভিষেক ঘটান। পরে দেশের জার্সি গায়ে প্রথমবার খেলার সুযোগ দেন রেনিয়ার, অমরজিৎ ও সুসেইরাজকে। সন্দেশ অভিজ্ঞ হলেও স্টপারে তাঁর সঙ্গী রাহুল বেকে এদিনই প্রথম স্টপারে খেললেন। তাই বোঝাপড়ার অভাবে রক্ষণ সংগঠনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তাতেই ভুগতে হয়েছে দলকে। এর মাঝে বড় প্রাপ্তি সাহাল, রেনিয়ার, অমরজিৎ, সুসেইরাজদের উজ্জীবিত ফুটবল। সাহালের ছটফটানির জন্য পেনাল্টি পায় ভারত। তাঁর পাস থেকে সুনীলের একটি শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধে বড় চেহারার কুরাসাও ফুটবলারদের সঙ্গে সুবিধা করতে না পারলেও ৪-২-৩-১ ছকে আক্রমণাত্মক মনোভাবে দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি গোছালো ফুটবল খেলেন স্টিম্যাকের ফুটবলাররা। অল্পদিনের প্রস্তুতিতে নতুন একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে ভাল খেলার যে চেষ্টা দেখা গেছে ভারতের খেলায়, তাতে স্টিম্যাকের কোচিংয়ে দলটা অনেকদূর যাবে বললে ভুল হবে না। তৃপ্ত ভারতীয় কোচ। বলেন, ‘ ভারতীয় দলের খেলা অনেকটা বুরিরামের আবহাওয়ার মতো। প্রথমার্ধে ছিল প্রবল রোদ, দ্বিতীয়ার্ধে প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি। আমাদের শুরুটা ভাল হয়নি, কিন্তু বিরতির পর সামান্য রদবদলে দল ছন্দে ফেরে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় ফুটবলাররা। বিশেষ করে রেনিয়ার, অমরজিতের মতো নবীন ফুটবলাররা যেভাবে ভয় না পেয়ে কুরাসাওয়ের বড় চেহারার ফুটবলারদের মোকাবিলা করেছে, অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা প্রশংসনীয়। দ্বিতীয়ার্ধে ৫-৬টা সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা থেকে গোল হলে খেলার ফল অন্যরকম হতে পারত। দলের লড়াই ও খেলায় গর্বিত। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিছু ত্রুটি আছে। ফাইনাল থার্ডে বল পেয়ে যখন শট নেওয়ার দরকার, তখন পাস দিচ্ছে। আবার পাস করার সময় শট নিয়ে ফেলছে। এটা শোধরাতে হবে বেশি প্র্যাকটিস করে।’ ৮ জুন ম্যাচ শেষে দেশে ফিরেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের প্রস্তুতি শুরু করবেন স্টিম্যাক। আশা করছেন, দলের বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা যোগ দিলে দল আরও শক্তিশালী হবে।
ভারত: গুরপ্রীত, প্রীতম, সন্দেশ, রাহুল, শুভাশিস, উদান্তা, প্রণয়( রেনিয়ার), ব্রান্ডন( সুসেইরাজ), ছাঙতে( অমরজিৎ), সাহাল, সুনীল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news