চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিঁদুর পরিয়ে আইনি ঝামেলায় জড়াতে পারেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। দশমীর সন্ধ্যায় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বৈশাখী বলেছিলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে স্বীকৃতির অভাব কোনও দিন ছিল না।’’ রবিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন শোভনে বিধায়ক পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও পুত্র সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা যে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। রত্নার কথায়, ‘‘ওরা যা পারছে করছে। কিন্তু ভুলে যাচ্ছে দেশে এখনও আইন রয়েছে। শোভন আইনত এখনও আমার স্বামী।’’

বেহালা পূর্বের বিধায়ক আরও বলেছেন, ‘‘হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী আমি এখনও শোভনের স্ত্রী। তাই ও অন্য কাউকে সিঁদুর পরাতে পারে না।’’ এরপরেই রত্না যোগ করেন, ‘‘স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ অন্য কোনও স্ত্রীলোকের সঙ্গে থাকে, তাহলে ওই স্ত্রীলোককে সমাজ ‘রক্ষিতা’ বলে। রক্ষিতাকে সিঁদুর পরালেই সে স্ত্রী হয়ে যায় না।’’ স্ত্রীর ছাড়াও শোভনের সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁর পুত্র সপ্তর্ষি।
সপ্তর্ষি বলেছেন, “সিঁদুর খেলা দুর্গাপুজোয় হতেই পারে। কিন্তু, আমার একটা প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের দেশে শরিয়ত আইন মানা হয় না। দুর্গাপুজো হিন্দুদের উৎসব। আইনত যখন শোভন চট্টোপাধ্যায় বিবাহিত, তখন তিনি কী করে এমন একজনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন যিনি অন্যের স্ত্রী এবং তাঁরও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি’!” তিনি আরও বলেছেন, “শোভন চট্টোপাধ্যায় স্নান করে বেরোনোর পর কালী পুজো করেন। তিনি যখন হিন্দু ধর্ম মানেন, তখন এত বড় আইন কী করে ভাঙেন! দুর্গাপুজোয় মহিলাকে সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে আরাধনা করা হয়। আমরা বলি, সব মহিলার মধ্যে দুর্গা রয়েছেন। আজ তিনি দুর্গাপুজোয় নিজের স্ত্রীকে অপমান করে অন্যের স্ত্রীকে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামেও বলা হয়েছে যদি আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান তাহলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু, এখানে তো উনি বেলেল্লাপনা করে বেড়াচ্ছেন।” স্ত্রী পুত্রের এমন প্রতিক্রিয়ার পরেই মনে করা হচ্ছে সিঁদুর দান নিয়ে আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news