নীল রায়
বিষ্ণুপুর লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন? তা নিয়ে জোর জল্পনা বাঁকুড়া জেলার রাজনীতিতে। বিষ্ণুপুরের বর্তমান সংসদ সৌমিত্র খাঁ বিদ্রোহী হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে তাকে ফের ওই আসনের প্রার্থী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই সৌমিত্র খাঁ আগামী লোকসভা ভোটে বিষ্ণুপুর তপশিলি আসনে পদ্ম প্রতীকের প্রার্থী হচ্ছেন, এটা মোটামুটি পাকাই ধরে নেওয়া যায়। তার বিকল্প হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসে দুজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। প্রথমজন ঘটনাচক্রে বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর থেকেই নির্বাচিত বিধায়ক তথা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। তিনি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। দ্বিতীয় জন প্রাক্তন সিবিআই কর্তা ড. উপেন বিশ্বাস।ঘটনাচক্রে, কোতুলপুর থেকে ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু ২০১৪ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হলে কোতুলপুর বিধানসভা পদত্যাগ করেন তিনি। ফলে উপ নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ান এলাকার শিক্ষিত যুবক বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা শ্যামল সাঁতরা। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্বে ভোট তার দিকেই। কিন্তু তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব বিষ্ণুপুর আসনের ক্ষেত্রে দুদে প্রাক্তন আইপিএস কি ভেবে রেখেছে। ২০১১-১৬ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন উপেন বিশ্বাস। আইপিএস অফিসার হিসেবে নিজের জামানায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পুলিশ আধিকারিক হিসেবে তার ভাবমূর্তি ঈর্ষণীয়। সেই কথা মাথায় রেখেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে বিধায়ক দুলাল বরকে সরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা কেন্দ্রে উপেন বিশ্বাসকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। জয়ী হলে মন্ত্রিসভায় স্থানও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৬ সালে বাগদা কেন্দ্রীয় সিপিএম কংগ্রেসের জোট প্রার্থী দুলাল বরের কাছে পরাজিত হন। যদিও ও কংগ্রেসের টিকিটে জেতা দুলাল বর এখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপর থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের এই আইপিএসকে তৃণমূল রাজনীতিতে সেভাবে দেখা যায় না। রাজনৈতিক মহলে মাঝে গুঞ্জন উঠেছিল বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। এরপরই নাকি নড়েচড়ে বসে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাকে আশ্বাস দেওয়া হয় যথা সময়ে তাকে প্রাপ্য সম্মান দিবে দল। গত ৯ জানুয়ারি সৌমিত্র খাঁ দিল্লিতে তৃণমূল ছেড়ে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে চলে যান। তারপর থেকেই বিষ্ণুপুর আসনে তৃণমূল নেতৃত্বের অভাব না বিশ্বাস এর নাম ঘোরাফেরা করছে। বিষ্ণুপুরে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে লড়াই মূলত শ্যামল সাঁতরা ও উপেন বিশ্বাস দুজনের মধ্যেই। তবে এক্ষেত্রে পাল্লা ভারী অবশ্যই উপেন বিশ্বাসের। কারণ, ওপেন বিশ্বাস একজন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্মাবলম্বী হিসেবে বৌদ্ধ হলেও, পিছিয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায় প্রতিনিধি এই প্রাক্তন সিবিআই কর্তা। 2014 সালের পর মতুয়া ভোটে ভাগ বসিয়েছে নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহের দল। সম্প্রতি ঠাকুরনগরে নরেন্দ্র মোদির সভায় বিপুল জনসমাগম সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাই বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর ও বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে উপেন বিশ্বাসকে প্রার্থী করতে পারলে মতুয়া সমাজের সমর্থন অনেকটাই তৃণমূলের দিকে ঢলে পড়বে বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই বিষ্ণুপুরের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে যুবা শ্যামলকে পিছনে ফেলে খানিকটা হলেও এগিয়ে প্রবীণ উপেন।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান বাঁচানোর উদ্দেশ্যে জেলায় জেলায় গন অবস্থান হবে বলে ঘোষণা করলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত হবে। পরদিন মহকুমা স্তরে এই অবস্থান বসবে। এদিন মেদিনীপুরের সভা করে তৃণমূল সরকার কে আক্রমণ করেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শিবরাজ সিং চৌহান। এই আক্রমণের জবাবে পার্থ বলেন, “যারা পরিযায়ী পাখি তাদের কথার কি উওর দেবো। প্রধানমন্ত্রী ভয়াতঙ্কে আছে যারা চোকসী কে পালাতে দিচ্ছে সেটা দেখূন।” রাজ্য কংগ্রেসের অবস্থানকে আক্রমণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন
ডাব্লু কার সাথে আছে আর কার সাথে নেই।
কংগ্রেস দিল্লির নেতারা তো মমতাকে সমর্থন করছেন। আর এখানে চিট ফান্ড মিছিল করছেন কেন ? প্রদেশ কংগ্রেস তোও সাইনবোর্ড হয়ে গেছে ।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news