Breaking News
Home / TRENDING / বিদ্রোহের জেরে হাওড়া এনডি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদ হারালেন রুদ্রনীল

বিদ্রোহের জেরে হাওড়া এনডি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদ হারালেন রুদ্রনীল

নীল রায়।

হাওড়া নৃসিংহ দত্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছে। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ১১ জুন রুদ্রনীলের কমিটির চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই ১০ সদস্যের ওই গভর্নিং বডির কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন ১১ জনের কমিটিতে স্থান পাননি এই অভিনেতা। শুধু তাই নয়, রুদ্রনীলের কমিটির ৮ জনকেই‌ ছাঁটাই করেছে শিক্ষা দপ্তর। তাঁর বদলে সভাপতি হয়েছেন অধ্যাপক পৃথ্বীশ কুমার রায়। এই অধ্যাপক আবার তৃণমূল সমর্থিত সংগঠন ওয়েবকুপার হাওড়া জেলা সভাপতিও বটে। ঘটনাচক্রে, রুদ্রনীল ঘোষ এই শিবপুর বিধানসভা এলাকার নৃসিংহ দত্ত কলেজেই অধ্যায়ন করেছেন।

চলতি মাসের ২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চে দেখা যায়নি অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। ‌তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই সংবাদমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন এই অভিনেতা। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতির সমালোচনা করে এই অভিনেতা বলেন, “কাটমানি অভিযোগের পাল্টা ব্ল্যাকমানি হতে পারে না।” তবে তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে রুদ্রনীল ঘোষ ছিলেন তৃণমূলের “স্টার ক্যাম্পেনার”-দের অন্যতম। কিন্তু তাঁকে ২০১৯ সালের ভোটে সেই তালিকায় রাখা হয়নি। সেই ঘটনা থেকেই ক্ষোভের সূত্রপাত। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য রুদ্রনীলকেও ফোন করেছিলেন রাজ্যের এক মন্ত্রী। সেই মন্ত্রীর ফোন না ধরে সরকারকে বার্তা দিতে চেয়ে ছিলেন রুদ্রনীল। সেই নীরব বার্তায় তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও হেলদোল না দেখেই, শেষে সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন রুদ্রনীল ঘোষ। মনে করা হচ্ছে সেই বিদ্রোহের কারণে এবার গভর্নিং বডির সভাপতি পদ হারাতে হল তাঁকে।

তবে রুদ্রনীল ঘোষকে এনডি‌ কলেজের পরিচালনা সমিতির সভাপতি করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়েছিল হাওড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। ২০১৫ সালের জুন মাসে রুদ্রনীলকে নরসিংহ দত্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি করার সময়ই বিস্তর আপত্তি জানিয়েছিল জেলার প্রথম সারির তৃণমূল নেতারা। কারণ সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য থাকাকালীন হাওড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষের বিবাদ ছিল সর্বজনবিদিত। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালীনও একাধিক সিদ্ধান্তে মতানৈক্য দেখা দিয়েছিল রুদ্রনীল-তৃণমূল নেতাদের মধ্যে। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কারণে হাওড়া জেলা তৃণমূল নেতারা রুদ্রনীলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার স্বয়ং বিদ্রোহী হয়ে সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। ‌ যার জেরে রুদ্রনীল সভাপতি পদ খোয়ানোর পর খুশির হাওয়া হাওড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *