দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
ম্যাচের শেষ বলে ছয় মেরে হারা ম্যাচ বার করে নিয়ে যিনি এক সময় আসমুদ্রহিমাচলের অভিসম্পাত কুড়োতেন তিনি জাভেদ মিঁয়াদাদ।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সেও বহুবার দেখেছে ব্যাট হাতে দাম্ভিক পদচারণা। সেই কলকাতারই ক্রিকেট-রাজকুমার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য করে, সুদূর পাকিস্তান থেকে নিজের অজান্তেই রাজ্য রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছেন মিয়াঁদাদ।
সম্প্রতি মিঁয়াদাদ বলেছেন, সৌরভ মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। তাই পাকিস্তান বিরোধী মন্তব্য করছেন এমনকি ইডেন থেকে পাক ক্রিকেটারদের ছবি সরানোর দাবিকেও সমর্থন করছেন তিনি। সৌরভ অবশ্য মিঁয়াদাদের কথার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জানিয়েছেন দাদাসুলভ নম্রতা বজায় রেখেই। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে কথা বলেননি, বলেছেন দেশের পক্ষে।
সৌরভ যাই বলুন পাক ক্রিকেটারের এই মন্তব্য এবং সৌরভের পাল্টা মন্তব্য পুরনো একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনা আবার ফিরিয়ে এনেছে। ২০১৪ সালে সৌরভকে বিজেপি দলে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিল এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন সৌরভ এই খবরের সত্যতা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি ঠিকই কিন্তু অস্বীকারও করেননি। বিজেপি নেতা প্রকাশ জাভরেকরও তাই। তিনি তখন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘আমি সব কথা শুনলাম, বুঝলামও কিন্তু এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ এই খবরের পরেই কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যও সৌরভের সঙ্গে দেখা করে আসেন। সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সৌরভের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল। তখন অশোক বলেছিলেন, ‘সৌরভ রাজনীতিতে আসবে না, আমি ওঁকে চিনি।’
এইসবই পাঁচ বছর আগের কথা। পাঁচ বছর পর পুলওয়ামা ট্র্যাজেডিতে সৌরভ যে ভূমিকা নিলেন তা তাঁর দেশাত্মবোধজাত তাতে সন্দেহ নেই, তবে কোনও দলীয় না হোক তাঁর নিজস্ব রাজনীতি এর মধ্যে নিহিত নেই, এমন কথা কেউ হলফ করে বলতে পারছেন না।
কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, সৌরভের মতো ব্যক্তিত্বকে রাজনীতি দিয়ে মাপা যায় না। তবে ইমরানের মতো সর্বকালের সেরা একজন অলরাউন্ডার যদি রাজনীতির গণ্ডিতে নিজেকে নিয়ে আসেন ও চুড়ান্ত সাফল্য পান তাহলে সৌরভ কেন নয়? প্রদীপ ভট্টাচার্যের বক্তব্যের পরেও এই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেছেন, তিনি সৌরভের সুহৃদ হলেও পুলওয়ামা কাণ্ডের সঙ্গে ক্রিকেটকে মিলিয়ে সৌরভ যে অবস্থান নিয়েছেন তা তিনি সমর্থন করেন না। বরং এক্ষেত্রে তিনি শচীনের সমর্থক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য শচীন পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বন্ধ করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
ডান ও বাম রাজনীতির এই দুই ভট্টাচার্য যাই বলুন না কেন বিজেপি সূত্রের খবর ২০১৪ সাল থেকেই সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে বিজেপি। দল ও সরকারের একদম শীর্ষস্তর থেকে সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। ফলতঃ পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এবং তখনও সৌরভের সম্মতি থাকলে চমকপ্রদ কিছু ঘটতেই পারে।
তথ্য সহায়তা : নীল রায় ও নীল বণিক
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news