নীল রায়। লোকসভা ভোটে লড়াই করতে চেয়ে বামফ্রন্টের কাছে আসন দাবি করেছে পিডিএস। কিন্তু কোনওমতেই তাদের আসন ছাড়তে চায় না বামফ্রন্ট। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হলে বৃহত্তর বাম দলের ঐক্য নিয়ে এবারের ভোটে লড়াই করবে সিপিএম। সেই দলের মধ্যে রয়েছে সমীর পুততুন্ডর পিডিএস। স্থির ভাবে কোনও আসনের দাবি না জানালেও, একটি আসলে তারা লড়াই করতে চায় বলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর কাছে দাবি জানিয়েছিল তারা। প্রাক্তন সতীর্থের এই দাবির কথা দল সিপিএম ও বামফ্রন্টের শরিকদের জানিয়েছে বিমান। আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক ও সিপিআই সমীর পুততুন্ডর দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। তাছাড়া সিপিএমের অন্দরেও এই দাবি মানা হবে না বলে স্থির হয়ে গিয়েছে। কারণ তারা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে পিডিএসের কোনও জনভিত্তি নেই। তাই এমন একটি দলকে লোকসভা আসন ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। এ প্রসঙ্গে পিডিএস রাজ্য সভাপতি সমীর পুততুন্ড বলেন, “এ বিষয়ে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের কারও সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি।” তবে তাদের যে বামফ্রন্ট কোনও আসন ছাড়বে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সংকেত পেয়ে গিয়েছেন সমীর। সূত্রের খবর, সিপিআই (এম এল লিবারেশন)-কে একটি আসনে ছড়ার বিষয় সিদ্ধান্ত প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছে বামফ্রন্টে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হলে, কৃষ্ণনগর আসনটি ছাড়া হবে তাদের। সি পি আই (এম এল লিবারেশন)-এর পক্ষ থেকে কৃষ্ণনগর ও ঝাড়গ্রামের মধ্যে যে কোনও একটি আসনের দাবি জানানো হয়েছিল বামফ্রন্টে। সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগর আসনটি সি পি আই (এম এল লিবারেশন)-কে ছাড়ার ব্যাপারে কথা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সি পি আই (এম এল লিবারেশন)-কে একটি আসন ছাড়া হলে, কেন পিডিএস-কে আসন ছাড়া হবে না? এক্ষেত্রে এক সিপিএমের নেতার যুক্তি, ” সি পি আই (এম এল লিবারেশন)-এর সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা হলেও রয়েছে। যে কৃষ্ণনগর আসন ছড়ার কথা ভাবা হয়েছে সেখানেও তাদের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট। গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে পর্যন্ত সেখানে কয়েকটি পঞ্চায়েতে তাদের আসন ছিল। তৃণমূল ও পুলিশ বাহিনীর সন্ত্রাসে সেই আসনগুলি তারা ধরে রাখতে না পারলেও, সাংগঠনিক শক্তি কিন্তু বজায় রয়েছে। যা পিডিএসের নেই বললেই চলে।” ২০০১ সালে সিপিএম ছেড়ে বেরোনোর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটগুলিতে প্রার্থী দিয়ে এসেছেন সমীর পুততুন্ডরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২০০৬ সাল থেকে জমি আন্দোলনে শরিক হলেও, তার রাজনৈতিক ফায়দা পিডিএস তুলতে পারেনি। ২০০৮ সালে পুরুলিয়ার পারা বিধানসভার উপনির্বাচনে আসনটি পিডিএস-কে ছেড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে জয় পাওয়া তো দূর অস্ত, তৃতীয় স্থানে শেষ করতে হয়েছিল সৈফুউদ্দিন চৌধুরী ও সমীর পুততুন্ডর দলকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বামফ্রন্টের সঙ্গী হিসেবে বেশ কয়েকটি আন্দোলনে সামিল হয়েছে পিডিএস। সেই সূত্র ধরেই এবার বামফ্রন্টের কাছে আসনের দাবি জানিয়েছিল তারা। কিন্তু তাদের সেই দাবি পূরণ হবে না বলেই বা সূত্রের খবর।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news