প্রসেনজিৎ মাহাতো:
বানের জেরে কলকাতা ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ এখন অথৈ জলে। জিতেও আনন্দে মাততে পারল না পিয়ারলেস। ইস্টবেঙ্গলের মাঠে ইস্টবেঙ্গল ও কাস্টমসের মধ্যে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির জল জমে থাকায় রেফারি বিপ্লব পোদ্দার এদিন ম্যাচ শুরুই করতে না পারল না।
আগের রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়েছিল। তাতে একটা সময় মনে হয়েছিল মাঠ খেলার অযোগ্য হয়ে দাঁড়ালে খেলা হওয়া সম্ভব কিনা? কিন্তু বেলা গড়াতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে গিয়ে মেঘের কোলে রোদ উঁকি দেয়। প্রকৃতি দেবী তখন মুচকি হাসছিলেন আড়ালে বসে। দুপুর আড়াইটেয় ম্যাচ শুরুর অল্প আগে গ্রিয়ার মাঠের দিক থেকে ইস্টবেঙ্গল মাঠের ধার ঘেঁষে ঢুকতে থাকে বানের জল। উত্তর–পূর্ব কোণের কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে প্রায় অনেকটা অংশ জুড়ে থাকা জল ক্রমশ সাইডলাইন ধরে সেন্টার সার্কেলের কাছাকাছি চলে আসে। অন্যদিকে চলে যায় গোলপোস্ট পর্যন্ত। এতে রেফারি ম্যাচ শুরুই করতে পারেননি। পিয়ারলেস সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও দুর্গা পুজোর আবহের মাঝে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা বুকে নিয়ে গ্যালারিতে ভিড় জমিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। সেটা মাথায় রেখে ম্যাচ কমিশনার বিকাশ মুখার্জি ম্যাচ করানোর জোরালো চেষ্টা করেছিলেন। তিন দফা পর্যবেক্ষণ ও দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর গ্রিয়ার মাঠের দিকের গোলপোস্টের উত্তর–পূর্ব কোণে জমে থাকা জল না নামায় ম্যাচ কমিশনার ইস্টবেঙ্গল–কাস্টমস ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। একটা সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জল নামার জন্য অপেক্ষা করার কথা ভেবেছিলেন ম্যাচ কমিশনার। কিন্তু জল নামার কোনও লক্ষণ না থাকায়, তিনি আর সে পথে হাঁটেননি। পরে জানান, ‘অপেক্ষার কোনও নির্দিষ্ট সময় এখানে বলা নেই। তবে ফেডারেশনের নিয়ম মেনে দু’বার আধঘণ্টা পরপর দেখি জল নামছে কিনা। আরও ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর যখন বুঝি জল কখন নামবে বোঝা মুশকিল, তখন ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করি।’ এতে পিয়ারলেস ২৩ পয়েন্টে পৌঁছলেও তারা চ্যাম্পিয়ন নয়।
ইস্টবেঙ্গল–কাস্টমস ম্যাচের ফল ঝুলে থাকায়। এখন যা পরিস্থিতি তাতে ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ৭ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে কাস্টমসের বিরুদ্ধে। ফুটবলে সবই সম্ভব। কিন্তু পরিত্যক্ত ম্যাচটা কবে হবে তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দেয় ইস্টবেঙ্গল ও কাস্টমস কর্তাদের অনড় মনোভাবে। ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার আগে মাঠে উপস্থিত আইএফএ সহ–সচিবরা দু’দলকেই জানান, সোমবার ম্যাচ খেলতে হতে পারে। ইস্টবেঙ্গল মাঠে দাঁড়িয়ে কাস্টমস কর্তা কুশল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা অবনমনের আওতায় আছি। তাই আমাদের ম্যাচ অবনমনে থাকা অন্য দলের সঙ্গে একদিনে এক সময়ে হওয়া উচিত ছিল। আইএফএ সেটা না মেনে আমাদের জোর করেই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ম্যাচ ফেলেছিল। প্রতিবাদ পত্র দিয়েই এদিন খেলতে নেমেছিলাম। এখন ম্যাচ হয়নি। এবার সোমবার ম্যাচ দিলে কোনওমতেই খেলব না। ওয়াকওভার দেব। আমাদের দাবি, একদিনে ও একইসময়ে বাকি সব ম্যাচ ফেলতে হবে।’
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে বসে আইএফএ–র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন দলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার। বলেন, ‘আইএফএ দ্বিচারিতা কেন করল? চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই বলেই তিন মাঠে একদিনে একসময় ম্যাচ ফেলা হয়েছিল। যখন আমাদের মাঠে বানের জল ঢোকায় ম্যাচ শুরু করা গেল না, তখন অন্য দুই মাঠে ম্যাচ কেন শুরু হল? এটা জানতে চেয়ে আইএফএ–কে চিঠি দিচ্ছি। কী উত্তর দেয় দেখি। তার ভিত্তিতে ঠিক করব আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ।’ অবশ্য পাশে মোহনবাগান মাঠে ম্যাচ হলেও কেন বানের জলে ইস্টবেঙ্গল মাঠ ভাসল, তার সদুত্তর ছিল না ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের মুখে। এনিয়ে আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখার্জি বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গলের চিঠি এখনও হাতে পাইনি। তবে ইস্টবেঙ্গলের অভিযোগ ঠিক নয়। অন্য দুটো মাঠে খেলা হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল বলেই রেফারি, ম্যাচ কমিশনার ম্যাচ খেলিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গল মাঠে ম্যাচ করানোর প্রাথমিক দায়িত্ব ওই ক্লাবেরই। তাছাড়া আইএফএ–র নিজস্ব কোনও মাঠ নেই। তাই অনেক প্রতিবন্ধকতার মাঝে ম্যাচ করাতে হয়। সামনে পুজো। পুলিশ পাওয়ার সমস্যা। ১ থেকে ১৫ অক্টোবর ময়দান বন্ধ। সেটা মাথায় রেখে ২ অক্টোবর ইস্টবেঙ্গল–কাস্টমস ম্যাচ কল্যাণীতে দিচ্ছি। বাকি তিন ম্যাচ হবে হাওড়া স্টেডিয়াম, রবীন্দ্র সরোবর, বারাসতে। কল্যাণীর ম্যাচে পুলিশ পাওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সেটা মেটানোর চেষ্টা চলছে।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news