নীল রায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্ন শুনে কটাক্ষই শোনা গেল লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়গের কণ্ঠে। শনিবার ব্রিগেড সমাবেশে যোগদানের পর সন্ধ্যায় বিধান ভবনে সোমেন মিত্র ও প্রদীপ ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। মমতাকে কী প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে কংগ্রেস? এমন প্রশ্নের উত্তরে খাড়গে বলেন “আগে ছাগল ঈদ পর্যন্ত বাঁচুক। তারপর তো ছাগল মহরমের মিছিলে নাচবে কিনা ঠিক হবে।” প্রসঙ্গত, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলি যতই নিজেদের প্রধানমন্ত্রীত্বের দাবিদার বলে মনে করুন না কেন। কংগ্রেস যে তাতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়, খড়গের মন্তব্যে তা স্পষ্ট। লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই প্রধানমন্ত্রীত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্ভব খাড়গে এই মন্তব্যে সেকথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রকে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য কমিটির মত ছাড়া তাদের ওপর জোট চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
মোদি সরকারকে আক্রমণ করে মল্লিকার্জুন খড়গে বলেন,” বিজেপি দেশের সবকিছু ভাঙতে চাইছে। কিন্তু কংগ্রেসের উদ্দেশ্যই হলো সব জোড়া লাগানো। তাই সংঘ পরিবার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ে কংগ্রেস আন্তরিকভাবে আগ্রহী। এই লড়াই লড়তে গিয়ে কংগ্রেসকে আত্মত্যাগ করতে হয়েছে।” খাড়গে দৃষ্টান্ত স্বরূপ কর্ণাটকের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন “সেখানে অনেক বেশি সংখ্যক বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের স্বার্থে কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী পদে জে ডি এস-কে সমর্থন করেছে। বৃহত্তর স্বার্থে কংগ্রেস এমন আত্মত্যাগ বারে বারে করে এসেছে।” ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জোটবদ্ধ লড়াইয়ে কংগ্রেসের ইতিবাচক বার্তা বহন করেই তিনি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে খাড়গে দাবি করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, “রাজ্যে নির্বাচনী জোট,সমঝোতা ইত্যাদি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের ব্যাপার।”
শ্রী খাড়গে বলেন, “আসন্ন সংসদের অধিবেশনে সংসদের উভয় কক্ষেই শ্রী রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সকল বিরোধী দলগুলিকে সাথে নিয়ে রাফায়েল দুর্নীতি, দেশের কৃষকদের দুরবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে দুর্বার আন্দোলন সংগঠিত করতে কংগ্রেস বদ্ধপরিকর।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news