নীল রায়
মাত্র ৪৮ ঘন্টা! আর তাতেই ভোলবদল বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরার। “ভয় কিংবা ভক্তিতে” রবিবার উন্নাসিক অনুপমের বদলে ক্ষমাপ্রার্থী এক যুবককেই চোখে পড়েছে। শুক্রবার তিনি টুইট করে দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলে শিক্ষিত শ্রেনী তাঁর পাশে রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু এদিন সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে কার্যত ক্ষমা প্রাথর্না করেছেন এই যুবা অধ্যাপক। টুইটে তিনি লেখেন, “দিদিভাই, মিডিয়াতে পার্থদার মন্তব্যে মর্মাহত। আপনার আদর্শে আঁচড় পড়ে এযাবৎ এমন কাজ সজ্ঞানে করার কথা ভাবতেই পারি না। যদি, যথার্থ দলের স্বার্থে পার্থদা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। কারণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ দলের প্রকৃত স্বার্থের ঊর্ধ্বে নয়। আপনার আশীর্বাদপ্রার্থী। অনুপম।” কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কী এমন ঘটনা ঘটল যে দল থেকে বহিষ্কারের পর ১৭৫২৮টি অভিনন্দনের মেসেজ পাওয়া অনুপম, এখন উল্টো সুরে কথা বলছেন! রাজনৈতিক মহলের মতে, সৌমিত্র খাঁ দল ছাড়ার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অনুপমও হয়তো ভয় পাচ্ছেন, কোনও মামলায় ফেঁসে যাওয়ার। কারণ তাঁর সঙ্গে বীরভুম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সম্পর্ক ‘আদায় কাঁচকলায়।” যার জেরে বোলপুরের সাংসদকেই এক সময় এক ঘরে হতে হয়েছিল। আর বহিষ্কারের পর কোনও কাণ্ড ঘটালে এই অধ্যাপক-সাংসদ যেকোনও সময় বড়সড় ঝামেলায় পড়তে পারেন। তাই আগেভাগেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত ক্ষমা চেয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফোন না ধরলেও, এদিন হোয়াটস অ্যাপ-এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ড. হাজরা। এমন বার্তা দিয়ে তিনি কী দলে ফিরতে চাইছেন? জবাবে অধ্যাপক সাংসদ বলেন, “আমি কোনও দিনই দল ছাড়তে চাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে অ্যাকাডেমিশিয়ান থেকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। যে কোনও শিক্ষিত মানুষের কাছে এটাই কাম্য।”
সংসদে অনুপম-সৌমিত্র ছিলেন তৃণমূলের “জয় বীরু”। এ যাত্রায় জয় নিজের পথ বেছে নিলেও, বীরু কিন্তু আপন প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত বলেই মস্করা বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news