নীল রায়
পরিবর্তনের পরিবর্তন চেয়ে টুইট করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার পর উজ্জীবিত রাজ্য বিজেপি। তেমনই সঞ্জীবনী শক্তি থেকে এদিন সকালে টুইট করেন। তিনি লেখেন, “মানুষ দূরে চলে গেছে তৃণমূলের থেকে। মমতার সাথে থাকার পাপ মুছতে জেলায় জেলায় মানুষের কাছে যাচ্ছি,পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গে ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ আসন্ন।তাই, মমতা ভয় পেয়ে গেছে।২০১৯র পর তৃণমূল উঠে যাবে।মানুষ এখন শুধু একটাই আওয়াজ করছে,এবার বাংলা চলো বদলায়।” প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তনের যুদ্ধে তৃণমূল শিবিরের অন্যতম সৈনিক ছিলেন এই মুকুল। ২০০৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পর থেকে তৃণমূলের একাধিপত্য ছিল তারই। কর্মসূচি রুপায়ান থেকে যে কোন ভোটে ভোটে প্রার্থী চয়ন মমতা ছিলেন মুকুল নির্ভর। একসময় দল ও প্রশাসন দুইই মমতা দেখতেন মুকুল রায়ের চোখে। কিন্তু পালা বদল হয় ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের পর। সেই ভোট এই প্রথমবারের জন্য ডায়মন্ড হারবার থেকে নির্বাচিত হয়ে লোকসভায় যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই শুরু হয় অভিষেক বনাম মুকুল লড়াই। যার ফলস্বরূপ প্রথম দফায় ২০১৫ জুড়ে দল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন মুকুল। দলে ফিরেও, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল ছিলেন প্রায় তৃণমূলের “ঠুঁটো জগন্নাথ”। ২০১৮ সালের শেষ দিকে রাজ্যসভার পদ ও তৃণমূল কংগ্রেস দুইই ত্যাগ করেন মুকুল। দোসরা নভেম্বর ২০১৮ সালে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বরিষ্ঠ বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদের হাত ধরে যোগদান বিজেপিতে। বর্তমানে রাজ্যের লোকসভা ভোটে রণনীতি স্থির করতে গেরুয়া শিবির আস্থা রেখেছে মুকুল রায় উপরে। তৃণমূল থেকে সংসদ সদস্য সৌমিত্র খা-কে ভাঙ্গিয়ে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া, কিংবা ঠাকুরবাড়িতে বড়মা বীণাপাণি দেবী সংঘ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার। একের পর এক জট খুলে মুকুল রায় এখন পদ্ম শিবিরের হিরোই বটে। আরে এদিন পরিবর্তনের পরিবর্তন চেয়ে টুইট করে মুকুল যেন লোকসভা ভোটের রণ-ভেরী বাজিয়ে দিলেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news