ভাস্কর মান্না
সামনেই লোকসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে মাথায় রেখে ডিজে সমাবেশ করল বামেরা। ব্রিগেড সমাবেশ থেকে সমস্ত বাম নেতাদের একটাই বক্তব্য, তৃণমূল হঠাও, রাজ্য বাঁচাও। বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও। এছাড়া সাম্প্রদায়িক বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দলগুলিকে এক জোট বেঁধে লড়ার ডাক দিয়েছে তারা। আজ বামেদের ব্রিগেড সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই এর সাধারণ সম্পাদক সুধাকর রেড্ডি, আরএসপির ক্ষিতি গোস্বামী, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, লিবারেশন এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবব্রত বিশ্বাস, মহম্মদ সেলিম, দেবলীনা হেমব্রম, রবীন দেব ও অন্যান্যরা।
তাদের বক্তব্য এক নজরে —-
বিমান বসু : – ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, নীতিকে ঘিরে লড়াই করতে হবে। যে নীতি গরিব মানুষের স্বার্থে, যে নীতি মহিলাদের স্বার্থে। রাজ্যে নাকি উন্নয়নের বন্যা বইছে! অথচ মানুষ না খেয়ে মরছে। আরএসএস কে পশ্চিমবাংলায় ঘাঁটি গড়ার জন্য কেউ যদি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে, সে তবে তৃণমূল নেত্রী। বিজেপি আর তৃণমূল এক বৃন্তে দুটি ফুল।
দেবব্রত বিশ্বাস : – এই রাজ্যে, দিল্লিতে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা বিভিন্ন রকম প্রলোভন দিচ্ছে, অনুদান দিচ্ছে। আমরা অনুদান চাইনা। এই রাজ্যে কোনও ধর্মের নামে নির্বাচন হয় না, বিভক্ত হয় না। অথচ ২০১১ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে, এই রাজনীতি করা হচ্ছে, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বাধীনতায় যাদের কোনও ভূমিকা নেই, তারা গাঁধীজীর চশমা চুরি করে, স্বচ্ছ ভারত করছে। ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি বিজেপির। সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে উপড়ে ফেলতে হবে।
সুধাকর রেড্ডি : – গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিপদের মুখে । অর্থনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত। পাঁচ বছরে দেশের ক্ষতি করেছে বিজেপি।
ক্ষিতি গোস্বামী : – বামেদের ব্রিগেড এ লালে লাল। ব্রিগেড ভরাতে ব্যর্থ তৃণমূল। নিন্দার রাজনীতি করছে তৃণমূল। নোট বাতিলের ফলে ৮৬ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। জিএসটির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্ষতিগ্রস্ত।
সীতারাম ইয়েচুরি : – গোটা দেশে লুঠতরাজ চলছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটানো হচ্ছে। মোদীর নীতি দেশকে ধ্বংস করছে। নেতা নয় নীতি চায় দেশবাসী। ৪৫ বছরের রেকর্ড বেকার মোদীর আমলে। চৌকিদারের ছুটির সময় হয়ে এসেছে । চুরি করা চৌকিদার চায়না দেশ। দেশ -রাজ্য রক্ষায় বিজেপি তৃণমূল কে বিদায় দিন।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য : – এনআরসিতে চল্লিশ লক্ষ মানুষের নাম বাদ। এনআরসির নামে ভেদাভেদ করছে কেন্দ্র । গণতন্ত্র আক্রান্ত, সংবিধান বিপন্ন। মমতা বলছেন কৃষকদের আয় বেড়েছে। তাহলে রাজ্যে কৃষকরা কেন আত্মঘাতী হচ্ছেন? ভাঙরে কেন কৃষকের জমি কাড়া হচ্ছে? লালগড়ে শবরদের মৃত্যু হল কিভাবে? শহরে সিন্ডিকেট রাজ চলছে । দেশের মতো রাজ্যও বিকল্প প্রয়োজন।
দেবলীনা হেমব্রম : – কথা নয়, কাজ করে দেখান মোদী। কারও দয়ার দান চাইনা। শিক্ষা চাই, চাকরি চাই। সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষক কোথায়?
সূর্যকান্ত মিশ্র : – কিছুদিন আগে ব্রিগেডের ২৩ জন বক্তা ছিলেন। শোনার লোক ছিল না। আজ ন জন আছে, কিন্তু শোনার লোক দ্বিগুণ। বাংলা বাঁচাতে গেলে সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। প্রথমে দিল্লি থেকে মোদীকে সরাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলায় চাষীদের আয় তিনগুণ হয়েছে, পৃথিবীর কোথাও চাষীদের আয় তিনগুণ হওয়ার কথা কেউ শোনেনি। চপ পকোড়া ভাজার জন্য মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন নেই। বাংলায় শিল্প চাই, কাজ চাই। আপনি থাকলে এক পয়সাও বিনিয়োগ আসবে না। দুই হাতে কাজ চাই, পেটে ভাত চাই। রাজ্য থেকে শিল্প তাড়াচ্ছে মমতা। ১৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি চাই। আগে যারা আমাদের গাড়ি চালাতেন তারা মন্ত্রীদের থেকে বেশি টাকা পেতেন। এখন মুখ্যমন্ত্রীর মাইনে তিনগুণ। চৌকিদার চোর। চৌকিদার, পাহারাদার দফাদার কাউকেই চায়না। নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে লাল ঝড় আসছে।
মহম্মদ সেলিম : – লাল সমুদ্রকে বাধা দিলে সুনামি হবে। দিদি টিকে আছেন, কারণ ওখানে দাদার সঙ্গে সেটিং করে নিয়েছেন। বাজেটের নামে নতুন করে জুমলা দিয়েছেন মোদি সরকার। পাঁচ বছরে কেন কিছু করা হয়নি? মোদি বলেছেন কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করেছি, দিদি বলেছেন তিনগুণ করেছি। তাহলে কেন চাষীদের ২০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে? মোদী বলছেন কংগ্রেস মুক্ত ভারত, দিদি বলছেন কংগ্রেস মুক্ত বাংলা। এখন শুধু মৌসম বদলাচ্ছে। মোদী দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ,এখনও পূরণ হয়নি। প্রশ্ন করলে বলে, দিদি যদি ৮০ লক্ষ চাকরি দিয়ে থাকে, তাহলে আমিও দুই কোটির বেশি চাকরি দিয়েছি। ধর্মের নামে বিভাজন করছে মোদী মমতা। বাম আমলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় নি। সেদিন তৃণমূলকে চোর বলে ছিলাম, আজও বলছি। ৫টা পুলিশ খুন হয়েছে, অথচ তৃণমূলের ভয়ে একটাও এফআইআর হয়নি। সারধা নারদা নিয়ে মোদী কিছু করবে না।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news