Breaking News
Home / TRENDING / নিজের তৈরি পিচেই ম্যাচ খোয়াতে পারে তৃণমূল

নিজের তৈরি পিচেই ম্যাচ খোয়াতে পারে তৃণমূল

সুমন ভট্টাচার্য

( মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব )

লোকসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়া মাত্র, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এবং সেই উত্তাপ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের শাসক দলের প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে একেবারে মুখোমুখি সামনের সারিতে চলে এসেছে বিজেপি। এবং যদি প্রত্যাশা মতো তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে বিধান নগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত এবং উত্তর ২৪ পরগনার ডাকসাইটে নেতা অর্জুন সিংহকে দলে টেনে গেরুয়া শিবির তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে, তাহলে লোকসভা নির্বাচনের আগেই মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে যেতে পারবে বিজেপি। নিজের পুরনো ঘর তৃণমূলকে হাতের আঙ্গুলের মতো চেনেন বলেই ঠিক সময় তৃণমূলের দুঃখী আত্মাদের বিজেপিতে এনে শাসক শিবিরকে ধাক্কা দিতে পারছেন মুকুল রায়। একইসঙ্গে পাকিস্তানে সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর থেকেই জাতীয়তাবাদের জোয়ারে নিজেদেরকে ভাসিয়ে দেওয়া বিজেপির সঙ্গে মোকাবিলা করা তৃণমূল কেন যেকোনও বিরোধী দলের পক্ষেই যথেষ্ট কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক যেমন কার্গিলের পরে অটল বিহারী বাজপেয়ী দ্বিতীয়বার দিল্লীর মসনদে ফিরে এসেছিলেন, তেমনই নরেন্দ্র মোদীও দ্বিতীয়বার কুর্সিতে বসে অভিনন্দনকে অভিনন্দন জানাতে পারেন। ‘আমি পাকিস্তানকে ডরাই না’, এই ভাবমূর্তির পাশাপাশি সকল কূটনীতি এবং জাতীয়তাবাদের উন্মেষই বিজেপির জন্য এই নির্বাচনের হাতিয়ার।

আর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে থাকা ক্ষোভ এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষ, বিজেপির জন্য তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিচুতলার যেসব কংগ্রেস ও সিপিএমের কর্মীরা মনেপ্রাণে তৃণমূলকে শত্রু ঠাউরান, তারাও কি করবেন, যেসব লোকসভা কেন্দ্রে যে তৃণমূলকে হারাতে পারবে তার দিকেই ঢলে পড়বেন এই নিচুতলার কংগ্রেস ও সিপিএম কর্মীরা। রায়গঞ্জে দীপা দাশমুন্সি প্রার্থী না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা কি মহম্মদ সেলিমকে ভোট দেবেন? অবশ্যই নয়! যে সেলিমের কাছে গতবার দীপা মাত্র দেড় হাজার ভোটে হেরেছিলেন, দীপা অনুগামীরা নিশ্চিতভাবে সেই কাস্তে হাতুড়িকে ভোট দেবেন না। দাশমুন্সি পরিবারের খাস তালুকে তাই এবার বিজেপি অ্যাডভান্টেজ।

সেইরকম বারাসাত, ব্যারাকপুর, দমদম কিংবা বরানগর পদ্ম ফুল শুধু ফোটার অপেক্ষা। মনে রাখবেন হিন্দু বাঙালি উদ্বাস্তু এই প্রথমবার নিজের অধিকারের কথা, নিজের জাতাভিমানের উন্নয়নের কথা জোর গলায় বলার সুযোগ পেয়েছে এবং সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিটিজেনসিপ আমেন্ডমেন্ট বিলের জন্য। সেই বিল হয়তো রাজ্যসভায় পাস হয়নি কিন্তু হিন্দু বাঙালি যার স্মৃতিতে দেশভাগের যন্ত্রণা রয়েছে, সেইসব কি একবার নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইবে না! ঠাকুরনগরের সভায় এসে নরেন্দ্র মোদী তো আসলে সেই ভাবনাগুলোকেই উস্কে দিয়ে গিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির এবার সেই হাওয়াকে ঝড়ে পরিণত করার দায়িত্ব।

সব্যসাচী, অর্জুনের মত ‘বাহুবলী নেতারা’ যদি বিজেপিতে ঢুকে পড়েন, তাহলে ধারে এবং ভারে গেরুয়া শিবির তৃণমূলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিতে পারবে। এই টক্করে রাজনীতি যতটা থাকবে, ততটাই হয়তো পেশিশক্তির আস্ফালনও থাকবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় গত আট বছরের রাজনীতিতে তৃণমূল যে পিচ তৈরি করেছিল, সেই পিচেই এবার তাদেরকে গেরুয়া শিবিরের বোলিংকে মোকাবেলা করতে হবে। অতএব, কিছু বল যদি বাউন্সার হয়ে চিবুকে ধাক্কা দেয় বা কানের পাশ দিয়ে অস্বস্তি বাড়িয়ে বেরিয়ে যায়, তাহলে ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসুরা কীই বা করতে পারেন!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *