Breaking News
Home / TRENDING / নিজের কথার প্যাঁচে নিজেই পড়েছেন মমতা, ভোটের আগে উল্টো বিপত্তি

নিজের কথার প্যাঁচে নিজেই পড়েছেন মমতা, ভোটের আগে উল্টো বিপত্তি

নীল রায়

“চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা!” পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তেমনটাই মনে হচ্ছে। দিন কয়েক আগে কালীঘাটে সাংবাদিক সম্মেলনে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান করার দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে তাঁর দাবি ছিল, যেভাবে রাজ্যের জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়েছেন তিনি সেভাবেই নাকি শান্তি ফেরানো যাবে ভূস্বর্গে। ভাবখানা এমন, যেন সুযোগ পেলেই তা তুড়ি মেরে করে দেখাবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অন্তত তেমনটাই বক্তব্য। কিন্তু ভোটের মুখে জঙ্গলমহল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরানোর তৎপরতা শুরু হতেই ঘুম ছুটেছে রাজ্য প্রশাসনের। যা নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের। রাজ্যের আপত্তি সত্বেও ভোটের জন্য বাহিনী ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে নবান্ন। তাই এখন কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের কথা ভুলে, জঙ্গলমহলের তিন জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ধরে রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ভোটের কাজে জঙ্গলমহল থেকে ৩৫ কোম্পানী বাহিনী সরাতে চেয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেয় কেন্দ্র। মার্চ মাসের মাঝামাঝি ওই চিঠি পেয়েই প্রতিবাদ করেছে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে যেন-তেন প্রকারেণ জঙ্গলমহলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ধরে রাখতে চায় রাজ্য। কেন্দ্রকে নবান্ন যুক্তি দেখিয়েছে জঙ্গলমহল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরিয়ে নিলে পাশের রাজ্য থেকে মাওবাদীরা রাজ্যে ঢুকে পড়তে পারে। রাজ্য সরকার চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানায় মাওবাদীরা রাজ্যে ঢুকে পড়লে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ভোটের মুখে তাই বাহিনী সরানো কোনও ভাবেই সম্ভব নয় বলে জানায় নবান্ন। সূত্রের খবর, সেই চিঠির কোনও উত্তর এখনও পর্যন্ত না আসায় উদ্বেগ বেড়েছে রাজ্য সরকারের। কারণ, মুখে জঙ্গলমহল শান্ত করার দাবি করে। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান তুড়ি মেরে করার কথা বলা যে রাজনৈতিকভাবে ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া কিছু নয়, তা ভালই জানে শাসকদলের অন্দর মহল। নবান্নের আশঙ্কা, ভোটের কথা বলে একবার বাহিনী সরিয়ে নিলে, পরে আবার বাহিনী নাও মিলতে পারে। আর সেই সুযোগে জঙ্গলমহলে দৌরাত্ম্য বাড়াতে পারে মাওবাদীরা। সেই পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ যা বামফ্রন্ট জমানার শেষ দিকে হয়েছিল, সেই অন্ধকার দিন আবার ফিরতে পারে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে। তাই এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় নবান্ন। কারণ, রাজ্য সরকার ভালোই জানে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপটে জঙ্গলমহলে কোণঠাসা হয়েছিল মাওবাদীরা। তাদের বুটের গর্জন এখনও জঙ্গলমহলকে শান্ত রেখেছে। বাহিনী বড় অংশ জঙ্গলমহলের এলাকা থেকে সরে গেলে, আবারও পুরনো জমি ধরতে নামবেন কিষেনজির সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এমন আশঙ্কা কুরে কুরে খাচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের। এমতাবস্থায় নয়াদিল্লি থেকে যদি বাহিনী রেখে দেওয়ার অনুমতি মেলে। তাহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে নবান্ন। তাই আপাতত কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের কথা ভুলে, নিজেদের প্রাণ বাঁচাতেই তৎপরতা বাড়ছে কালীঘাট ও নবান্নে!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *