পার্থসারথি পাণ্ডা:
জীবনানন্দের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে কবিতার জগতে এসেছিলেন যে ক’জন কবি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিনয় মজুমদার। জীবনানন্দের ভাষা আর বাক্যবন্ধের এক অদ্ভুত মোহ আছে, পৃথিবীর প্রথম সারির সমস্ত কবিদের লেখাতেই তা থাকে, তাঁদের গুণমুগ্ধ কবির পক্ষে অনেক সময়ই সেই মোহ কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু জীবনানন্দের ভাবশিষ্য শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও বিনয় মজুমদার সেই মোহের মায়াজাল কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজের পথ তৈরি করে নিতে পেরেছিলেন। বিনয় মজুমদার জীবনানন্দীয় ‘নক্ষত্রের আলোয়’ পথ চিনতে চিনতে নিজস্ব বোধির মুখোমুখি হয়ে বুঝে নিয়েছিলেন ‘মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়’।
কবিতার অবয়বে তিনি বার্মায় কাটানো ছেলেবেলার ধূসর স্বপ্নমালা, উদ্বাস্তু হয়ে জল্লাদবাহিনীর চোখ এড়িয়ে এপারে আসার দুঃস্বপ্নের জ্বালা, চাকরির মুখে ছাই দিয়ে কবিতাসর্বস্ব জীবন বেছে নেওয়া—এসবই কবিতায় এসেছে নানান প্রতীকে, এমনকি কখনও কখনও তা যৌনতার প্রতীকেও ধরা দিয়েছে। ভাঙা সময়ের বুকে নখের আঁচড় কেটে বলেছেন–
‘ভালবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?
লীলাময়ী করপুটে তোমাদের সবই ঝরে যায়—‘
গণিত নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে এসে ‘হদয় অবাধ্য পুরুষের’ মতো প্রেমে পড়েছিলেন গায়ত্রী চক্রবর্তীর। স্যারের মেয়ে। একপক্ষিক প্রেম। তবুও সেই প্রেমের সম্মান করেছেন সারাজীবন, অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা ভাবেননি। ভাবতে পারেননি। গায়ত্রী বিদেশ চলে গেলেন, বিনয় আশ্রয় নিলেন ঠাকুরনগর আর কবিতায়। লিখলেন কাব্যগ্রন্থ, ‘গায়ত্রীকে’। এক গণিতবিদের নবজন্ম হল ‘বাল্মীকির কবিতা’য়।
তিনি কবিতায় আনলেন গণিতকেও। দেখালেন গণিতসূত্রও কবিতা হয়ে উঠতে পারে। হাংরি জেনারেশন আন্দোলনে উলটপালট করে দিলেন কবিতার ভাষা। তারপরেও তিনি বলেন–
‘কবিতা বুঝিনি আমি; অন্ধকারে একটি জোনাকি
যৎসামান্য আলো দেয়, কোমল আলোক–‘
এতটাই বিনয়ী এই কবি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news