নীল রায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা নিতে অস্বীকার করলেন তিনজন সিপিএম বিধায়ক। গত শনিবার নিজের বাড়ির কাছের সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে গিয়ে খুন হন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। শাসক দলের যুব বিধায়ক খুনের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের প্রায় সমস্ত দলের বিধায়ক তথা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নবান্নের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় তিনজন সিপিএম বিধায়ক নিরাপত্তারক্ষী নিতে অস্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে। এরা প্রত্যেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে নির্বাচিত। ঘটনাচক্রে নবান্ন মারফত জেলা তথা পুলিশ কমিশনারেটগুলিতে নির্দেশ পাওয়ার পর তৎপরতা শুরু হয়। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের থেকে ফোন যায় বিধায়কদের কাছে। সেভাবেই ফোন পান জামুড়িয়ার দুবারের সিপিএম বিধায়ক জাহানারা খান। সূত্রের খবর, জামুরিয়া থানা থেকে জাহানারা খানকে ফোন করে একটি বৈঠকে আসতে বলা হয়। এমন ফোন পেয়ে কার্যত অবাকই হয়ে যান জামুড়িয়ার সিপিএম নেত্রী। কারণ গত সাড়ে সাত বছর সময়কালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনওরকম বৈঠকে ডাক পাননি তিনি। পুলিস আধিকারিকের কাছে জানতে চান, আচমকা কেন তাদের এই বৈঠকে ডাকা হচ্ছে? সূত্রের খবর পুলিশ কর্তা জানান, সত্যজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন সমস্ত বিধায়ক তথা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিপিএম বিধায়ক পুলিশকর্তার কাছে জানতে চান বিধায়ক ছাড়া কোন কোন নেতাদের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্গাপুর আসানসোল কমিশনারেট? সেই সময় বেশ কয়েকজন স্থানীয় তৃণমূল নেতার নাম আধিকারিক জাহানারা খানকে জানানো হয়। নাম শোনামাত্রই বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন বিধায়ক। সঙ্গে তিনি জানান, যে সমস্ত ব্যক্তিদের তৃণমূল নেতার নাম দিয়ে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই তিনি নিরাপত্তারক্ষী নেবেন না। একইভাবে নিরাপত্তারক্ষী নিতে অস্বীকার করেছেন সিপিএমের রানীগঞ্জের বিধায়ক রুনু দত্ত ও দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক সন্তোষ দেব রায়। নিরাপত্তারক্ষী না নেওয়া প্রসঙ্গে জাহানারা বলেন, “আমি খবর নিয়ে জেনেছি তৃণমূল নেতা সোহরাব আলী ও নারায়ণ চক্রবর্তীকে বিধায়কদের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে ওই বৈঠক মারফত। সোহরাব আলীর ভাবমূর্তি কেমন তা গোটা বর্ধমান শিল্পাঞ্চল এলাকার মানুষ জানেন। আর নারায়ণ চক্রবর্তী তো দমদম বিমানবন্দর থেকে অস্ত্র সমেত ধরা পড়েছিলেন। এমন মানুষদের সঙ্গে এক সারিতে বসে নিরাপত্তা নিতে আমার তীব্র আপত্তি রয়েছে।” প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যুর পর প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারেটের শীর্ষ কর্তারা বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নতুন করে সাজানোর বন্দোবস্ত করছেন। ইতিমধ্যে যে সমস্ত বিধায়করা নিরাপত্তা পেতেন না, থেকে কমপক্ষে তাদের সঙ্গে এক জন করে নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, বিধায়করা যেন তাদের আগাম কর্মসূচি লিখিতভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে দেন। সঙ্গে কোনওদিন তাদের নিরাপত্তারক্ষী ছুটি চাইলে আগে থেকে সেই বিষয়টিও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিরোধী দলের বিধায়কদের অসহযোগিতায় বিপাকে পড়েছে পুলিশ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্তারা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news