Breaking News
Home / TRENDING / ‘দিদিকে বলো’তে বিধায়কের সঙ্গে রাত কাটাতে এত লোক কেন? প্রশ্ন সুব্রত বক্সীর

‘দিদিকে বলো’তে বিধায়কের সঙ্গে রাত কাটাতে এত লোক কেন? প্রশ্ন সুব্রত বক্সীর

সূর্য সরকার:

পাইক বরকন্দাজ নিয়ে ‘দিদিকে বলো’ করতে না যাওয়ার পরামর্শ তৃণমূল নেতৃত্বের। “এত লোক নিয়ে যাবেন না। ভালো কাজের বদলে উল্টে মানুষকে অতিষ্ঠ করছেন।” কোচবিহার জেলা নিয়ে ‘দিদিকে বলো’ কলকাতায় রিভিউ বৈঠকে জেলা নেতৃত্বকে এই বার্তা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের।

এ দিনের বৈঠকে কোচবিহারের বিধায়ক সহ একাধিক সংগঠন এবং ব্লকের নেতাদের মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক করেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং প্রশান্ত কিশোর।
সূত্রের খবর, এদিন বৈঠকের ফাঁকে শীতলকুচির তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী হিতেন বর্মন উঠে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন, “দিদিকে বলো করতে গিয়ে রাতে থাকার ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা হচ্ছে।‌ সঙ্গে অনেক দলীয় কর্মীরা যাচ্ছেন। পাশাপাশি চারজন করে পুলিশও থাকছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোনও পরিবারের পক্ষে এত লোকের খরচ বহন করা সম্ভব নয়। কোনও বাড়িতেই এত লোকজন নিয়ে থাকতে গেলে সেই পরিবারের লোকজনদের সমস্যায় ফেলা হয়। সেক্ষেত্রে কি করা যেতে পারে?” তারপরেই দলের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সীর পাল্টা ভর্ৎসনার মুখে পড়েন রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী। বক্সির পাল্টা প্রশ্ন, “এত পুলিশ নিয়ে ঘুরতে যেতে বলেছে আপনাকে? ‘দিদিকে বলো’ তো আপনার কাজ। অতিরিক্ত কর্মী নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যতটা সম্ভব কম লোক নিয়ে যান। যদি একান্তই দরকার হয় একজন দু’জন পুলিশ থাকবে। দলের লোকেরাই তো আপনাদের নিরাপত্তা। এত ভয় কিসের?” রাজ্য সভাপতি প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য আর কথা বাড়াননি হিতেন বর্মন। চুপচাপ বসে পড়েন নিজের আসনে।‌

উল্লেখ্য, ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি করতে গিয়ে রাত্রে বাড়ি বাড়ি থাকতে হচ্ছে বিধায়কদের। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে অন্য সমস্যা। কোন কোন বিধায়ক অধিক সংখ্যক লোক নিয়ে যাচ্ছেন।‌ অনেক সময় তা ৩০-৪০ জন হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে দলের কাছে অভিযোগও এসেছে। প্রশান্ত কিশোরের টিমও খোঁজখবর রাখছে। স্বাভাবিকভাবেই এত লোকজনের ব্যবস্থা করা সাধারণ নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সমস্যার। যতটা সম্ভব কম সংখ্যায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

তবে কোচবিহার জেলার বিধায়ক সহ ব্লকস্তর পর্যন্ত নেতৃত্বে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির কাজ মোটের উপর ভালো হয়েছে বলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই কাজে আরও বেশি করে নজর দিতে হবে বলেই পরামর্শ দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ, ১০০ দিন পর বিধানসভা নির্বাচন সেটা মনে করে এখন থেকেই বিধানসভার প্রস্তুতি শুরু করে দিন। নিজের এলাকার বুথ ভিত্তিক রিভিউ বৈঠক করুন। সমস্যা নির্দিষ্ট করুন এবং তার দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করুন। এমন পর্যালোচনা বৈঠক জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আবারও শুরু হবে বলেই এ দিনের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *