নিজস্ব প্রতিনিধি :
দু’দিনও কাটেনি তাঁর পিসি অর্থাৎ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জুন সিংহ আর দীনেশ ত্রিবেদীকে এক টেবিলে বসিয়ে আলোচনা করেছিলেন। মিটমাট করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তৃণমূল সূত্রে এমনটাই খবর। দু’দিন কাটতে না কাটতেই অর্জুন বিজেপিতে যোগ দেওয়ায়, ভাইপো, অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বিষয়টা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। অভিষেকের অবস্থানে থেকে এমন কথা বলাটাই স্বাভাবিক, রাজনৈতিক ভাবে এটাই অভিপ্রেত। কিন্তু কেউ দল ছেড়ে গেলেই, দলে তাঁর দীর্ঘ দিনের অবদানকে অস্বীকার করা বা অপমান করার এই প্রবণতা ভাল চোখে দেখছেন না দলের অনেকেই।
অভিষেক এদিন বলেছেন, অর্জুন সিংহ যদি এত বড় নেতা হয় তাহলে বিজেপির টিকিটে দাঁড়াক। তাঁর চ্যালেঞ্জ দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে অর্জুন ২ লাখের বেশি ভোট হারবেন।
প্রশ্ন করা হয়, অর্জুনকে বাইরের রাজ্যেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অর্জুনের দলত্যাগ কি ওই অঞ্চলের অবাঙালী ভোটে প্রভাব ফেলবে?
উত্তর, কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাজ সাংগঠনিক ভাবে হয়েছে।
অভিষেকের গলায় সেই একই রকম তাচ্ছিল্য, একই রকম অবজ্ঞা।
অর্জুন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে, অনুপম হাজরার প্রসঙ্গ নিজেই তোলেন তিনি। একজন অধ্যাপক সম্পর্কে তাঁর ভাষার ব্যবহার কানে লাগার মতো। বললেন, “অনুপম হাজরা, বার করে দিয়েছি, জানে টিকিট পাব না, গেছে।”
মুকুল রায়, এখনকার তৃণমূলকে কর্পোরেটের সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, দল একদা ছিল। এখন পিসি-ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। এদিন তাঁর শব্দচয়নে ,বাচন ভঙ্গিমায় কি মুকুলের কথারই মান্যতা দিলেন অভিষেক?
রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ বলছেন, নেহাৎ আত্মীয়তা সূত্রে নেতৃত্ব পেলে এমনটাই হয়। নিজেকে কোনওদিন যিনি পরীক্ষা দেননি তিনি হয়ে গেছেন পরীক্ষক। তিনি নম্বর দিচ্ছেন তাঁদের, যাঁদের কাঁধে ভর করে দল আজ এই জায়গায় এসেছে।
দলের অন্দরেই অনেকে বলছেন, অভিষেক এইভাবে কথা বলে গেলে, লাভ বিপক্ষের। তিনি বয়েসে নবীন, তিনি জানেন না, রাজনীতিতে চুপ করে থাকাটাও কোনও কোনও সময় খুব জরুরী।
তৃণমূলের এইসব নেতারা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে যাই বলুন না কেন, দলীয় সহকর্মীদের প্রতি, রাজনীতিতে বা দলে, তাঁর সিনিয়রদের প্রতি, তিনি কেমন মনোভাব পোষণ করেন, তা এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news