নীল রায়
বহরমপুরের লোকসভা আসনে পঞ্চমবারের জন্য কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেখানে এবার তাঁর প্রতিপক্ষ একদা ভাবশিষ্য অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিড। গত কয়েক দশকের গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক এখন বিস্মৃত ইতিহাস। প্রচারে অপূর্ব সরকার তথা তৃণমূলের নেতারা নানা জনসভায় তেড়ে-ফুঁড়ে আক্রমণ করছেন অধীর চৌধুরীকে। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে এক আজব কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। ছোট স্ট্রিট কর্নার থেকে বড়সড় প্রচার সভা, কোনও ক্ষেত্রেই তৃণমূল প্রার্থীর নাম মুখে আনছেন না, কংগ্রেসের কোনও স্তরের নেতারা। তাঁরা প্রচারের শুরুতে আক্রমণ করছেন দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকারকে, আর শেষ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে। ভাবখানা এমন যেন অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন হয় বিজেপির নরেন্দ্র মোদী, নয় তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অপূর্ব সরকার যে জোড়া ফুল প্রতীকে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তাকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না কংগ্রেস নেতারা। এ প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা তথা বহরমপুরের বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা ওকে গুরুত্ব দিতে যাব কেন? এক সময় অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস করত। এখন দলের বাইরে গিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছে। অধীর চৌধুরীর মতো নেতার লড়াই তো আর কোনও ছোটখাটো নেতার সঙ্গে হতে পারে না। তাই ওকে পাত্তা দেওয়ার বিশেষ করে প্রয়োজন বোধ করছি না আমরা।” প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলায় কান্দির ছেলে ডেভিডের রাজনৈতিক উত্থান অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই। ৯০ দশকে কান্দি পুরসভার ভোটে অধীর চৌধুরী টিকিট দেন অপূর্ব সরকারকে। জিতে গুরুর আস্থার মর্যাদা দেন ডেভিড। পরে ২০০৬ সালে কান্দির রাজাবাবু প্রবীণ কংগ্রেসের অতীশ সিনহার বিরুদ্ধে তাঁকে কুঠার চিহ্ন প্রার্থীও করেন অধীর। গুরুর আস্থার মর্যাদা দিয়ে অতীশ সিনহাকে হারিয়ে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পা রাখেন অপূর্ব সরকার। ২০১৬ সালের বিধানসভার নির্বাচনে জয়ের পরে সমস্যার সূত্রপাত। দূরত্ব বাড়তে থাকে গুরু-শিষ্যের। ফলত, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন অপূর্ব। এখন তিনি অধীরের প্রধান প্রতিপক্ষ বহরমপুরের লোকসভা ভোটে। কিন্তু, কংগ্রেসের কোনও প্রচার পর্বে অপূর্ব সরকার কিংবা ডেভিডের নাম ঘুনাক্ষরেও উচ্চারণ করছেন না কংগ্রেস। কংগ্রেসের কাছে “ইগনোর ইজ দ্য বেস্ট পলিসি! “
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news