বিশেষ সংবাদদাতা
ম্যাচ বার করলেন মুকুল।
ম্যাচই বটে! একদিকে মতুয়াসঙ্ঘের ঠাকুরবাড়ির আভ্যন্তরীণ দ্বৈরথ অন্যদিকে নেপোয় দই মারা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব। যাঁরা ঠাকুর পরিবারের মতানৈক্যের সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সভা বানচাল করতে। রাজ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সভা ভেস্তে দিতে কোনও জনপ্রতিনিধি বা আইনসভার সদস্য মাঠে নামলে কী প্রকার বিরুপ বার্তা যায় সে ধারণা তৃণমূলের নেই : এমনই মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতারা। তার ওপর মতুয়াসঙ্ঘের দাবি মেনে যখন আগেই ঠিক হয়ে গেছিল ঠাকুরনগরের সভা কোনও দলীয় সভা হবে না। মতুয়াসঙ্ঘে প্রধানমন্ত্রী আসবেন ও সভা করবেন, এমনটাই ঠিক ছিল। বিজেপিও রাজি ছিল এই প্রস্তাবে। সেই মতো মুকুল ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা ও ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর ঘোষনাও করেছিলেন। ঠাকুরবাড়ির মাঠে মাইক লাগিয়ে প্রচারও শুরু করেছিলেন। বাধ সাধলেন তাঁর জেঠিমা, তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর। তাঁর বক্তব্য ২৮ তারিখ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ওই মাঠে তিনি কীর্তনের আয়োজন করেছেন এবং তাঁর প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়ায় সারা।
এমতাবস্থায় মাঠে নামলেন মুকুল রায়। নেমেই বাধার মুখে। তাঁকে পরিস্কার বলা হল যে তিনি মতুয়াদের কে? এখানে মতুয়াদের সভা! ঠাণ্ডা মাথার পা বাড়িয়ে আস্তে করে খেললেন, বললেন, ‘না হয় মানছি আমি মতুয়াদের কেউ নই। কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী তো বিজেপির নেতাও বটে। তিনি এলে বিজেপির একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে আমাকে তো থাকতেই হবে। ‘ ওদিকে এরই মধ্যে শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও সারলেন তিনি। শান্তনু প্রচার করলেন, মমতা ঠাকুর মতুয়া বিরোধী। প্রসঙ্গতঃ মমতা যাঁর সভায় বাধ সাধছেন সেই মোদির সরকারই চাইছে এখনও নাগরিকত্ব না পাওয়া সব মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদান করতে। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াই ছেড়ে ঠাকুরনগরের বুকে প্রধানমন্ত্রীর সভা যাতে সুষ্ঠু ভাবে করা যায় সেই পথই বার করলেন মুকুল। ঠিক হল হেলিপ্যাডের মাঠেই হবে মোদির সভা। মোদি মতুয়াসঙ্ঘে যাবেন ঠিকই কিন্তু সভা করবেন অন্য মাঠে।
প্রধানমন্ত্রী সভা মতুয়াসঙ্ঘের মাঠ থেকে বার করে দেওয়ার মধ্যে অবশ্য তাদের জয় দেখছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।
পুরো ঘটনা মতুয়া সমাজ কিভাবে দেখছে তা এখনও জানা যায়নি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news