Breaking News
Home / TRENDING / জোটের ‘আঙুর ফল টক’, একলা চলো নীতি মমতার

জোটের ‘আঙুর ফল টক’, একলা চলো নীতি মমতার

নীল রায়

“জোটের আঙুর ফল টক।” বুধবার দিল্লির রাজনীতির ঘনঘটা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে জোটের ফল টকই বটে। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনে একক ভাবে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। যদিও, কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে নরেন্দ্র মোদিকে হঠাতে কংগ্রেসের কাছে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল তৃণমূলই, এমনটাই খবর এআইসিসি সূত্রে। বুধবার সকালে সংসদের তৃণমূলের ধরনায় যখন রাহুল গান্ধী গিয়েছিলেন তখন জাতীয় রাজনীতির কারবারিরা ভাবতে শুরু করেছিলেন দুই কংগ্রেসের আবার জোটবদ্ধ হওয়া এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দিনের শেষে সুপ্রিমোর ঘোষণাই স্পষ্ট করে দেয় যাবতীয় সমীকরণ। তিনি আরো জানান, “বাংলায় সিপিএম ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই চলছে সেভাবেই চলবে কিন্তু জাতীয় স্তরে সবাই জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করবেন বিজেপির বিরুদ্ধে।’ আচমকা এমন সিদ্ধান্ত বদল কেন? মমতার সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন ওঠে জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহল। এদিন সংসদে অধীর চৌধুরীর চিটফান্ড নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে বক্তৃতায় কংগ্রেস সাংসদ টেবিল চাপড়ে সমর্থনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত পেয়ে যান এআইসিসির অবস্থানের। সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলতি দিল্লি সফরে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তো বটেই, কংগ্রেস-তৃণমূলের মধ্যে জোট সম্ভাবনা ফের জোরালো ভাবে দেখা দিয়েছিল। বুধবার সংসদ অধিবেশনে বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ বক্তৃতায় তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতৃত্বকে। অধীর বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২৫ লক্ষ মানুষের টাকা লুট করেছে। চিটফান্ডের টাকা লুট করে এরা সর্বস্বান্ত করেছে রাজ্যের গরিব মানুষকে এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক,। এই এখানে যাঁরা চোর চোর বলছে, তাঁরাই চোর। চোর মাচায়ে শোর! বাংলায় গরিব মানুষের টাকা লুঠ করেছে। সেই কারণেই এই বিলে আমি সমর্থন জানাচ্ছি।” অধীরের এমন ঝাঁঝালো বক্তৃতায় সমর্থন করে টেবিল চাপড়ান কংগ্রেসের অন্য সাংসদরা। টিভিতে দেখা যায় অধীর চৌধুরীর এমন আক্রমণাত্মক বক্তৃতা শুনে মুচকি হাসছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। যা লোকসভায় বসেই প্রত্যক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের প্রতিনিধিরা। অধীর চৌধুরীর আক্রমনাত্মক বক্তৃতায় কংগ্রেস সাংসদের সমর্থনে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ মমতা সংসদ অধিবেশন ছেড়ে বেরোনোর পর কথা বলেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সূত্রের খবর, তখনই সুদীপকে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টা আসনে তৃণমূল এককভাবে লড়াই করবে বলে ঘোষণা করে দিতে বলেন মমতা। নেত্রীর নির্দেশ মতো জাতীয় সংবাদমাধ্যমে উওর কলকাতার সংসদ ঘোষণা করেন, “বাংলায় বিজেপির আক্রমণ রুখতে তৃণমূল একাই যথেষ্ট। বাংলায় কোন জোট হবে না।৪২ টি আসনেই লড়বেন জোড়া ফুলের জনপ্রতিনিধিরা।” সম্প্রতি লোকসভা ভোটে বাংলায় জোট নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আহমেদ প্যাটেল ও তৃণমূলের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা শুরু হয়েছিল। ক্রিকেট সমাবেশে মল্লিকার্জুন খাড়গে ও অভিষেক মনু সিংভি উপস্থিতিতে বেজায় উৎসব জয়ী হয়েছিলেন মমতা। জোট নিয়ে কথাবার্তা এগিয়ে ছিল অনেকটাই। সম্প্রতি কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজকুমারের বাড়িতে সিবিআই হানা দেওয়ায় মমতা ধরনা অবস্থানে বসে যান। ধরনা অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে মমতাকে ফোন করে সমর্থন জানান স্বয়ং রাহুল গান্ধী। তারপরে আহমেদ প্যাটেল ও মমতার মধ্যে জোট নিয়ে কথাবার্তা আরো জোরালো ভাবে হতে থাকে বলেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে চারটি আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বহরমপুর, জঙ্গিপুর, মালদা দক্ষিণ সহ আরো একটি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে। বাকী ৩৮ টি আসনে একক ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত এআইসিসিকে জানিয়ে দেয় তৃণমূল। ‌ সূত্রের খবর দিল্লী পৌঁছে এই অবস্থানেই বহাল ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। ২০০৯ সালের লোকসভা ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টকে হারিয়েছিল দু’দল। ‌ ২০০১ সালে সিপিএমের বিরুদ্ধে জোট বেধে ছিল কংগ্রেস-তৃণমূল। সে যাত্রায় জোট ফলপ্রসূ হয়নি। এদিন অধীর চৌধুরীর ঝাঁজালো বক্তৃতায় অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদরা যেভাবে অপমানিত হয়েছেন, তাতেই আর জোট সম্ভব না বলেই মনে করছে তৃণমূল সংসদীয় দলের একটি বড় অংশ। চিটফান্ড নিয়ে কংগ্রেসের সংসদে আক্রমণকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি মমতা। তাই আগামী লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ৪২টি আসনে একক ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত বিকেলের ধরনা মঞ্চের বক্তৃতাতেও ঘোষণা করেন তিনি। কংগ্রেস শিবির সূত্রে খবর, মমতার দল ধারাবাহিকভাবে ভাঙ্গন দাঁড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসে। যা নিয়ে একাধিকবার বাংলার কংগ্রেস নেতারা এআইসিসিতে অভিযোগ জানিয়েছেন। আরো জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনওরকম জোটে যেতে তারা নারাজ। এমন ঘটনার মাঝে মালদা উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নূর যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। তাই মনে করা হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবেই অধীর চৌধুরীকে এহেন কটাক্ষ সুলভ বক্তৃতায় ইন্ধন যুগিয়েছে এআইসিসি নেতৃত্বই। ঝানু রাজনৈতিক নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এআইসিসির ঘোষিত বার্তা পড়ে, জোট থেকে আপাতত সরে এসে “একলা চলো”র পথে। সেদিকে তাকিয়েই জাতীয় রাজনৈতিক মহলের টিপ্পনী, ২০১৯ সালের ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ফল তৃণমূলের কাছে টকই থেকে যাচ্ছে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *