Breaking News
Home / TRENDING / জাগরণের দেবী কোজাগরী লক্ষ্মী

জাগরণের দেবী কোজাগরী লক্ষ্মী

পার্থসারথি পাণ্ডা :

 

তিনি মনের অন্ধকার, অভাবের অন্ধকারের মাঝে আমাদের জেগে থাকার কথা বলেন। তিনি কোজাগরী লক্ষ্মী। দেবী যেন পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোকদাত্রী। তিনি যেন আমাদের জীবনে সমৃদ্ধির আলো এনে দেবার ব্রত নিয়েছেন। তাই পূর্ণিমার চাঁদের সঙ্গে আজ সারাটি রাত জেগে থাকার সাধনা আমাদের। কারণ, আজ দেবী লক্ষ্মী ‘কে জাগেরে’ বলতে বলতে সপারিষদ পৃথিবীর পথে ভ্রমণে বেরুবেন, কৃপাপ্রার্থী কাউকে জেগে থাকতে দেখলে দেবী তাঁকে কৃপা করবেন, তাঁর মনস্কামনা পূর্ণ করবেন। দেবী রাতের কোন প্রহরে কোন ভক্তের দোরে যে আসবেন কেউ জানেন না, তাই সারারাত জেগে থাকার নিয়ম।

 

দেবতা ও অসুরদের সম্মিলিত সমুদ্রমন্থনের সময় উঠে এসেছিল পারিজাত, ঐরাবত, অমৃত আর উঠে এসেছিলেন দেবী লক্ষ্মী—তাঁদের জগতমঙ্গলের শক্তি নিয়ে। ঐরাবত তখন থেকেই সৌভাগ্য আর ঐশ্বর্যের আধার। তাই তার অধিকার নিয়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র, যাতে তিনি ঐশ্বর্যময় হয়ে থাকতে পারেন সর্বক্ষণ। স্বর্গের রাজার অনুসরণে তাঁরই মতো ঐশ্বর্যময় হয়ে উঠতে মর্ত্যের রাজাদের মধ্যে রাজছত্র, মুকুট, সিংহাসনে হাতির প্রতীক আঁকা ও হাতিশালায় হাতি রাখার ধুম পড়ে যায়। এবং উপাস্য প্রতিটি সম্পদদায়ী ও সৌভাগ্যদায়িনী দেব-দেবীর সঙ্গে কোন-না-কোনভাবেই জুড়ে যায় হাতি। যেমন, বিশ্বের কারিগর বিশ্বকর্মার অন্যতম এক বাহন হাতি, সিদ্ধিদাতা গণেশের মাথা হাতির, মঙ্গলচণ্ডীর সঙ্গে রয়েছে হাতি আর ধনদায়িনী লক্ষ্মীর সঙ্গেও রয়েছে দুটি হাতি, তাই দেবীর নাম গজলক্ষ্মী। 

 

এখানে কল্পনা করা হয়েছে যে, দুটি হাতি শুঁড় দিয়ে দেবীর অঙ্গে জলসেচন করছে। এর মধ্যে যেন কৃষি জীবনের সঙ্গে একটা যোগ দেখতে পাওয়া যায়। কারণ, ঐরাবতের অধিকারী ইন্দ্র ছিলেন বৃষ্টির দেবতা, বৃষ্টিনির্ভর কৃষির সময় মহাধূমধাম করে তাই ইন্দ্রের পুজো করা হত, ভক্তদের মনে হত এই ঐরাবতই যেন তাঁর শুঁড় দিয়ে বৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করেন। আর তাছাড়া আমাদের দেবীকল্পনায় লক্ষ্মীর সঙ্গে প্রথম থেকেই তো শস্যের সম্পর্ক রয়েছে, ধানকে সরাসরি লক্ষ্মী হিসেবে আমরা পূজাও করি। ফলে দেবীর রূপকল্পনার এক বাঁকে শস্যের দেবী সরাসরি শস্য হয়ে উঠেছেন, আর ইন্দ্রের হাতি হয়ে উঠেছে শস্যদায়ী বৃষ্টি। তাই শস্যাকাঙ্ক্ষী কৃষকভক্তের কল্পনায় এই দুয়ে মিলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে দেবী গজলক্ষ্মীর বর্তমান রূপটি। তাই দেবীর কাছে সেই প্রাচীন রূপকল্পনার যুগ থেকে ভক্তের একটাই অভিলাষ—আমাদের ভূমিকে শস্যশালিনী কর মা, আমাদের সম্পদশালী কর, সমস্ত অভাব ঘুচিয়ে দাও, আর মুছিয়ে দাও তোমার পূর্ণিমায় সমস্ত অন্ধকার!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *