নীল রায়
কংগ্রেস সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় নন, জঙ্গিপুরের যুদ্ধ “প্রাক্তন সাংসদ” থুড়ি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছায়ার সঙ্গেই। এমনটাই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মাস খানেক আগেও জঙ্গিপুরে এসে ঘুরে গিয়েছেন সদ্য ভারতরত্ন প্রাপক এই বঙ্গ সন্তান। আর তার জেরেই এই জল্পনা শুরু হয়েছে জঙ্গিপুর জুড়ে। দক্ষিণবঙ্গে একদা কংগ্রেসের একমাত্র দুর্গ ছিল মুর্শিদাবাদ। তৃণমূল জমানায় সেই মিথ ভেঙে মুর্শিদাবাদের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে জোড়া ফুল ফুটিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ। যার জেরে বহু আগে থেকেই মুর্শিদাবাদের তিনটি লোকসভা আসন নিজেদের দখলে আনার হুঙ্কার ছাড়ছেন মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।জঙ্গিপুর দখল প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি সুব্রত সাহার বক্তব্য, “জঙ্গিপুর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় হলেও, আমাদের লড়াই করতে হবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছায়ার সঙ্গে। তবে এটুকু বলতে পারি। গত পাঁচ বছরে আমরা মুর্শিদাবাদের যেভাবে শক্তি বাড়িয়েছি, তাতে কোনও প্রভাবই কাজ করবে না আমাদের জয়ের ক্ষেত্রে।” তবে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি আবু হেনা আবার সুব্রত সাহার মন্তব্যে বিশেষ কান দিতে নারাজ। তার কথায়, “সুব্রত সাহা কি বলেছেন সেটা তার ব্যাপার। জঙ্গিপুরে গত দুবার অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে জিতেছেন। আগামী দিনে তিনিই প্রার্থী। তিনিই জিতবেন। এটা ঠিক যে প্রণব মুখোপাধ্যায় জঙ্গিপুরের দুবারের সাংসদ হিসেবে এখানে যথেষ্ট কাজ করেছেন।” তার কাজের “ডিভিডেন্ড” যে তার পুত্র লাভ করেছেন, সেকথা অবশ্য স্বীকার করেছেন লালগোলার বিধায়ক আবু হেনা। ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য প্রণবের কাছে জঙ্গিপুর বরাবরই পয়মন্ত বলে প্রমাণ হয়েছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর প্রথমবারের জন্য লোকসভায় যেতে সাহায্য করেছিল প্রণব মুখোপাধ্যায়কে। তাও ২০০৪ সালে। নিজের ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একাধিক রাজ্যসভার সংসদ হওয়ার সৌভাগ্য হলেও, সত্তরোর্ধ প্রণবকে প্রথম লোকসভার যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছিল এই জঙ্গিপুরই। যা ছিল রাজনীতিক প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে আত্মতৃপ্তির বিষয়। ২০০৪ সালে এই আসন থেকে জিতে প্রথমে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পরে অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে ফের জঙ্গিপুর থেকে জিতলেও, নিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের রাষ্ট্রপতি হন প্রণব। ২০১২ সালে তিনি রাইসিনা হিলসের বাসিন্দা হলে, জঙ্গিপুরের উপভোটে কংগ্রেস প্রার্থী হন অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেই বীরভূমের নলহাটি বিধানসভা থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালের উপনির্বাচনে মাত্র আড়াই হাজার ভোটে জিতের প্রথম বারের জন্য লোকসভার সদস্য হয়েছিলেন প্রণব পুত্র। ২০১৪ সালে ৮১৬১ ভোটে জিতে ফের সংসদে যান। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে মুর্শিদাবাদে পরাক্রম বাড়িয়েছে বাংলার শাসক দল। তাই এবারে তাদের টার্গেট মুর্শিদাবাদের ৩ আসন। জঙ্গিপুর আসনে জোড়া ফুলের সম্ভাব্য প্রার্থী রঘুনাথপুরের কংগ্রেস বিধায়ক আক্রুজজমান। ২০১১ ও ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতলেও, ২০১৮ সালে দলবদল করে তিনি এখন তৃণমূলে। তাছাড়া ওই লোকসভার অধীন জঙ্গিপুর বিধানসভার বিধায়ক শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ও সাগরদীঘির বিধায়ক সুব্রত সাহা তৃণমূলের। তাই প্রার্থী পুত্র হোন, বা পিতার ছায়া। জঙ্গিপুর দখলে সম্মুখ সমরের জন্য কোমর বাঁধছে দিদির দল!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news