পার্থসারথি পাণ্ডা:
শবররাজ্যে যখন বিদ্যাপতিকে খুঁজে না পেয়ে হুলুস্থুল, তখন তাঁকে দেখা গেল উৎকলের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নর সভায়। সভায় তখন সে কি উল্লাস! নীলমাধবের খোঁজ মিলেছে। বিদ্যাপতির জয়জয়কার। রাজার চরের যোগ্য কাজ সে করেছে। এবার তো নীলমাধবকে আনতে হয়। কিন্তু এনে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হবে কোথায়? সাধারণ মন্দিরে তো সেই প্রাণের দেবতা রাখা যায় না। রাজা আদেশ দিলেন রত্নখচিত মন্দির নির্মাণের। রাজার আদেশে ঘড়িতে ঘোড়া ছোটে। ফলে, শুরু হল মন্দির নির্মাণের কাজ। রাতদিন এক করে কয়েক সহস্র মিস্তিরি ও শিল্পীর শ্রমে অল্পদিনেই শেষ হল মন্দিরের নির্মাণ। শিল্পসুষমায় ঐশ্বর্যে সে এক অপূর্ব মন্দির।
দেবতার গৃহ তৈরি হল, এবার তাঁকে এনে গৃহপ্রবেশ করাতে হবে তো! রাজার অন্দরবাইরে সেনামহলে সাজ সাজ রব উঠল। রাজা নিজে সৈন্য নিয়ে কুচ করে এগোতে লাগলেন শবর রাজ্যের দিকে, তাঁদের পথ চিনিয়ে নিয়ে যেতে লাগলেন বিদ্যাপতি। বিশ্বাবসু ঘর থেকে বন্ধচোখে সরষে ফেলতে ফেলতে যে পথ দিয়ে নীলমাধবের গুহায় গিয়েছিলেন, সে পথ এখন চিনিয়ে দেবে বীজ থেকে এতদিনে জন্ম নেওয়া সরষের গাছ। বিদ্যাপতি সেই পথ ধরে রাজা ও সৈন্যদের নিয়ে এগোতে লাগলেন গুহার দিকে। জঙ্গলের ভেতর তারা বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছিল, তারা যুদ্ধনিপুণ সশস্ত্র রাজসৈন্য, তাদের আবার ভয় কীসের! ফলে, অচিরেই তারা শবরদের চোখে পড়ে গেল। অমনি খবর গেল বিশ্বাবসুর কাছে। কোন এক রাজা এগিয়ে যাচ্ছেন সৈন্য নিয়ে নীলগিরির দিকে, তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বিদ্যাপতি। ব্যস, বিশ্বাবসুর বুঝতে বাকি রইল আর কিছু। কেন যে কালসাপকে ঘরে আশ্রয় দিয়েছিলেন, আজ সেই-ই তো দংশন করতে চাইছে! তাহলে এই ছিল বিদ্যাপতির মনে! একে তো ছাড়া যাবে না! তিনিও শবরসৈন্যদের সোজা। ছুটলেন নীলমাধবের গুহা রক্ষা করতে।
আগ্রাসীপক্ষ আর মরিয়া রক্ষকপক্ষ–দুই পক্ষ মুখোমুখি হল। বিশ্বাসভঙ্গের জন্য বিদ্যাপতিকে যথেষ্ট ভর্ৎসনা করলেন বিশ্বাবসু, বিদ্যাপতি লজ্জিত হলেন বটে, কিন্তু চরের কর্তব্য থেকে সরে দাঁড়ালেন না। তিনি কূটনীতিক চালে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে চাইলেন, চাইলেন যাতে রক্তক্ষয় না হয়। কিন্তু রাজা চান নীলমাধব, বিশ্বাবসু দিতে চান না। কেউ নিজের জায়গা থেকে একচুল নড়বেন না। দেবতার অধিকার নিয়ে শুরু হল উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, অনিবার্য হয়ে উঠল যুদ্ধ। এবার নড়ে চড়ে বসলেন ভগবান। দুই ভক্তকে তো লড়তে দেওয়া যায় না, কারও রক্তপাত তো তাঁর কাছে কাম্য নয়। ফলে, তাঁকেই কিছু একটা করতে হবে, যাতে সাপ মরে লাঠিও না ভাঙে। কি করবেন তিনি?
কিন্তু, সেই কাহিনী আগামী পর্বে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news