Breaking News
Home / TRENDING / চন্দ্রযানে শেষ মুহূর্তে বিপর্যয় কেন, উত্তরের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা

চন্দ্রযানে শেষ মুহূর্তে বিপর্যয় কেন, উত্তরের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা

ভাস্কর মান্না:

 

৪৭ দিনের টানা প্রচেষ্টার পরেও সাফল্য অধরা রইল ইসরোর। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ পরে ২২ জুলাই চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় চন্দ্রযান-২। তবে যাত্রার সময় বিলম্বিত হলেও গন্তব্যে যে পূর্ব নির্দিষ্ট দিনেই পৌঁছবে সেকথা আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন ইসরোর কর্তারা। 

 

প্রশ্ন উঠেছিল যাত্রা পিছিয়ে গেলেও পৌঁছনোর দিন একই রাখা হলে কোনো বিপত্তি হবে না তো! ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট দিনে পৌঁছানোর জন্য বাহুবলীর গতি কিছুটা বাড়ানো হবে। এছাড়া পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথেও কম বার প্রদক্ষিণ করেছে চন্দ্রযান-২। পাশপাশি প্রশ্ন উঠছে, চাঁদে বাতাস নেই। তার জন্য চন্দ্রযান-২ এর বিক্রমের নীচে তরল জ্বালানীর ৪টি রকেট ইঞ্জিন রাখা হয়েছিল। ওই ইঞ্জিনগুলি চন্দ্রযানের গতি নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদের বুকে নামাতে সাহায্য করবে। এই পর্যায়ে সামান্য কিছু গতির হেরফের হলেই বিপদ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। তাই এই পর্যায়ে বায়ুমন্ডলহীন চাঁদে কতটা নিখুঁত ভাবে চন্দ্রযানকে পদার্পন করেছিল ইসরো, সে দিকটিও বিবেচনার মধ্যে রাখছে বিজ্ঞানীরা। 

 

এছাড়া চাঁদে দিনের বেলা তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২০০ ডিগ্রির কাছাকাছি এবং রাতের বেলায় সেই তাপমাত্রায় নেমে হিমাঙ্কের নীচে চলে যায়। রাতে চাঁদের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে প্রায় ১৫০ ডিগ্রি নেমে যায়। একদিকে বিপুল তাপমাত্রা, অন্যদিকে হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা এই দুই তাপমাত্রায় যেকোন বৈদ্যুতিন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়।  তাই অরবিটার, বিক্রম ও প্ৰজ্ঞানের শরীরে বসানো যন্ত্রাংশ যাতে খারাপ না হয়, তার জন্য ভ্যাকুম চেম্বারে সেই কৃত্রিম উপগ্রহকে ঢুকিয়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে বা কমিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় পাশ হওয়ার পরেই চন্দ্রযান-২ চাঁদে পাঠানো হয়েছে। এখানেও সামান্য কিছু ত্রুটি রয়েছে কিনা তাও প্রশ্ন জাগাচ্ছে বিজ্ঞানীদের মনে।

 

রাত ১:৩৮ মিনিটে প্রথম অবতরণ স্থানের ছবি পাঠায় চন্দ্রযান-২। হটাৎ তারপরেই কেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হল চন্দ্রযানের সঙ্গে? এপ্রসঙ্গে ইসরোর এক কর্তা বলেন, কক্ষপথ থেকে চাঁদের মাটিতে পদার্পন করার জন্য ৫ টি পর্যায়ে কাজ করার কথা চন্দ্রযানের। প্রথমে চাঁদের মাটি থেকে ৩০ কিলোমিটার উপর থেকে গতি কমিয়ে নীচের দিকে আসবে চন্দ্রযান। সেইমতো কাজও হয়েছে। ৩০ কিলোমিটার উপর থেকে ছবি তুলে পাঠিয়েও ছিল বিক্রম। তারপর ৭ কিলোমিটার উপরে এসে অবতরণের জায়গা ঠিক করার কথা। এখানেও পরিকল্পনা মতো কাজ করেছে চন্দ্রযান। তারপর আরও নীচের দিকে নেমে অধিবৃত্তাকার পথে অবতরণ করার কথা চন্দ্রযানের। আর এখানেই হয়েছে বিপর্যয়। চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার উপরে থেমে যায় চন্দ্রযান। তার গতিপথের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কন্ট্রোল রুম থেকে বিজ্ঞানীরা রাতভর লাগাতার চেষ্টা করার পরেও কোনো হদিশ মেলেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গিয়েছে, এখনও চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *