তিয়াষা গুপ্ত
বিজেপি-র রথের চাকা থমকে গেছে। কিন্তু থেমে নেই বিজেপি। থেমে নেই তৃণমূলও। লড়াই আদালত ছাড়িয়ে গোবর, গঙ্গাজলেও।
গোবর, গোমূত্র, গঙ্গাজল, কাসর, ঘণ্টা। থুড়ি হিন্দুত্ব। এসব অনুসঙ্গ তো বিজেপি -র সঙ্গে যায়। অথচ সেই গঙ্গাজল, গোবর, গোমূত্র হাতিয়ার করল তৃণমূল কংগ্রেস। তাও আবার কোচবিহারে বিজেপি-র করা মিছিলের জমিকে শুদ্ধ করতে। তাহলে আরও একবার একথাই প্রমাণ হল, ভোট বড় বালাই। তাই বিজেপি-র রথ যাত্রার সমালোচনা করলেও, গোবর, গোমূত্র আশ্রয় করতে হচ্ছে তৃণমূলকেও। শনিবার কোচবিহারে সভা করেছে বিজেপি। পরে সেই জমি শুদ্ধ করতে আসরে নামেন তৃণমূল কর্মীরা। স্থানীয় তৃণমূল নেতা পঙ্কজ ঘোষ বলেন, এখানে বিজেপি এসে সাম্প্রদায়িক বার্তা দিয়েছে। তাই এই জমি পবিত্র করতে গঙ্গাজল ছেটানো হয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা আরও বলেন, এখানে মদন মোহন ছাড়া অন্য কোনো রথযাত্রা হতে পারে না। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপধ্যায় রথ যাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর কথায় এটা রাবন যাত্রা। গিমিক ছাড়া কিছু নয়।
এদিকে রথযাত্রা নিয়ে জট কাটার কোনো লক্ষণই নেই। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টেও রথযাত্রার দিনক্ষণ ধার্য হয়নি। দলের ঘোষণা মতো শুক্রবার কোচবিহার থেকে রথযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ রথযাত্রা পিছিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।তার বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চ আপিল মামলার শুনানি হয়। ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজেপির ৩ সদস্যের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডি জি কে আলোচনায় বসতে হবে। তারপর ১৪ ডিসেম্বর রাজ্যকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। এই অবস্থায় রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছে। কারণ রাজ্য মনে করে রথযাত্রা আসলে সাম্প্রদায়িক উস্কানি। তাই আলোচনা অবান্তর। রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা আঁচ করে আগেভাগে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে বিজেপি। বিজেপি সভাপতি আগেই হুঙ্কার ছেড়েছেন রথযাত্রা হবেই।
রথ যাত্রার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নতুন নয়। অতীতে ও ভোট যুদ্ধ পেরোতে রথ কে আশ্রয় করেছে বিজেপি। এবারও সেই ধারাই বজায় রাখলেন মোদী-শাহরা। রথ কে আঁকড়ে ১৯ পার করতে চান অমিত শাহ।
এবার রথের গতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেই দিকেই নজর গোটা দেশের।
রথকে ঘিরে লড়াই আদালতেও গড়িয়েছে। জল এখন কোনদিকে যায় সেটাই দেখার।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news