Breaking News
Home / TRENDING / ইতু পুজোর ইতিকথা

ইতু পুজোর ইতিকথা

পার্থসারথি পাণ্ডা

সূর্যদেব ও ইন্দ্রদেবতা দুজনে মিলে গিয়ে ব্রতপার্বণের ইতিহাসের একটি বাঁকে এসে তাঁরা গেরস্তের ব্রতিনী নারীদের কাছে দেবীতে রূপান্তরিত হয়ে গেলেন। সেই দেবীর নাম ‘ইতু’। পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয়ে যাওয়ার এই যে ইতিহাস এ বড় অভিনব। পূর্ব ইতিহাস যে নেই তা নয়, সমুদ্র মন্থনের শেষে বিষ্ণু দেবতাদের হিতব্রতে মোহিনী নারী হয়ে দেবতাদের অমৃতদান করে অমরত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের মঙ্গল করেছিলেন। অশুভশক্তির প্রতীক অসুরদের বঞ্চনা করে শুভশক্তির প্রতীক দেবতাদের সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর এই নারীরূপ তাই মঙ্গলের প্রতীক। শাস্ত্রীয় দেবতা সূর্য ও ইন্দ্রের লৌকিক দেবী ইতু হয়ে ওঠার পেছনেও এই মঙ্গলের আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে। কীভাবে আছে, সেটাই আমরা আলোচনা করব।

বৈদিক ও উত্তর বৈদিক যুগে সূর্য ও ইন্দ্র যুগপৎ প্রাণ ও বৃষ্টির দেবতা। কৃষির জন্য এই দুই দেবতারই অনুগ্রহের প্রয়োজন। অনুগ্রহ পেতে তাঁদের আরাধনাও বৃদ্ধি পায়। দ্বাপরে এসে আমরা দেখতে পাই কৃষ্ণের হাতে গিরিগোবর্ধন পর্বে ইন্দ্রের অহং নষ্ট হচ্ছে, এর থেকে ধরে নেওয়া যায়, তখন থেকেই উচ্চবিত্তের মধ্যে ইন্দ্র পুজোর জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমেছে। কিন্তু কৃষক শ্রেণির কাছে কৃষির কামনায় এই দুটি দেবতার পুজো আবশ্যক ছিল। কিন্তু রাজা পূজা না করলে প্রজা তো প্রকাশ্যে পুজো করতে পারে না। তাই এই দুই দেবতার আরাধনা শুরু হল অন্তঃপুরে। পুজোর ভার নিলেন নারীরা । তাদের হাতেই ইন্দ্র ও সূর্য হয়ে গেলেন ইতু । তাঁরা মুখে মুখে রচনা করলেন এই পুজোর মাহাত্ম্য মূলক ব্রতকথা–
অষ্ট পালনী মাতা সংসারের সার
জগৎ পালনে মাতা যারে অবতার।
খণ্ডিয়া পাপ দারিদ্র্য সকল
সকল বিপদে বন্ধন , হয়ে যায় রসাতল।

ব্রতকথার উমনো ঝুমনোর কাহিনির মধ্যে পুকুরের জল শুকিয়ে যাওয়া, দেবকন্যাদের আংটিতে তা জলপূর্ন হওয়া, ইতুর ঘটের জলে রাজপুত্রসহ তাঁর সমস্ত সৈন্যদের তেষ্টা মেটানোর যে রূপক তা ইন্দ্র উপাসনা ও কৃষি ক্ষেত্রে বৃষ্টি এবং সুজলা শস্যের সমৃদ্ধির কথাই বলে পক্ষান্তরে । তাই ইতুর ব্রতে ঘটভরা জল এবং সরার নব অঙ্কুরিত শস্য আবশ্যিক উপকরণ। শীতকালীন শুষ্কতার মাঝে বৃষ্টির আবাহনে ইতুদেবীর আরাধনা শুরু হয়। অঘ্রানের সংক্রান্তি এই দেবীর আবাহন কাল। এই ব্রতের সঙ্গে রবিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সূর্যের সঙ্গে এই ব্রতের আদিম সম্পর্ককেই যা স্পষ্ট করে–
শনিবার সপ্তমীতে থাকিবে নিয়মে
রবিবার ব্রতের কথা শুনিবে প্রভাতে।

সুতরাং, ইতু হলেন ইন্দ্র ও সূর্যের সংযুক্তিতে গড়ে ওঠা এক দেবী, যিনি নিতান্তই লৌকিক , যার হাতে গেরস্ত রমণীরা তুলে দিয়েছেন কৃষি ও সম্পদে সংসারের সমৃদ্ধির ভার। এই দিক থেকে ইতু দেবী আসলে লক্ষ্মীরই একটি রূপ।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *