Breaking News
Home / TRENDING / গুরু পূর্ণিমায় গুরু শিষ্যের সমস্ত পাপ হরণ করে চৈতন্যের সন্ধান দেন

গুরু পূর্ণিমায় গুরু শিষ্যের সমস্ত পাপ হরণ করে চৈতন্যের সন্ধান দেন

পার্থসারথি পাণ্ডা

কিবা বিপ্র কিবা ন্যাসী শূদ্র কেনে নয় ।
যেই কৃষ্ণ তত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয় ॥
চৈঃ চঃ ২।৮।১২৭
শিক্ষামূলক এই শ্লোকটির মধ্য দিয়ে মহাপ্রভু বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলাতত্ত্বকে অনুধাবণ করতে পেরেছেন, তিনি যে জাতি, যে ধর্ম, যে বর্ণের মানুষই হোন না কেন, গুরুর আসন তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট। গুরুর নিজের যেমন জাতবর্ণধর্মের বাঁধন থাকে না, তেমনি তাঁর কাছে শিষ্যের জাতধর্মবর্ণেরও বিচার নেই। তিনি শুধু দেখেন আধার। যার যেমন আধার, তাকে তেমন শিক্ষা দেন। গুরুর সেই ঔদার্যগুণের জন্যই মহাপ্রভু যবন-চন্ডাল-আতুরকে বুকে টেনে নিতে পেরেছিলেন। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের সাধনকালে নানা ধর্ম ও নানা মতের সাধন গুরুর সমাগম ঘটেছে দক্ষিণেশ্বরে। বাংলায় জাতিভেদপ্রথার প্রবল ছুৎমার্গের সময়ে দাঁড়িয়েও সারদা মা জয়রামবাটিতে ঘরের চাল ছাইতে আসা মুসলিম ঘরামী আমজাদকে নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করে খাইয়ে তার এঁটোকাঁটা পরিস্কার করেছেন। আমজাদ বাধা দিতে গেলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি যে সবার মা, মায়ের কাছে সন্তানের কি কোন জাত আছে! এটাই হল মূল কথা, গুরুর কাছে ভক্তশিষ্য তো সন্তান আর ভক্তশিষ্যের কাছে গুরু পিতা। বাপব্যাটার মধ্যে কি আর ধর্মবর্ণের বেড়া থাকে? থাকে না।

সেই বেড়া থাকে না বলেই বৌদ্ধ-জৈন-শিখ প্রভৃতি ধর্মের মানুষেরা ছুটে যান আজকের দিনটিতে কোথাও তাঁদের আদিগুরু, কোথাও বা দীক্ষাগুরুর চরণ ছুঁতে, কোথাও বা আত্মগুরুর সন্ধানে। আচারে হয়ত তফাৎ আছে,কিন্তু ভাবক্ষেত্রে সবাই সমান। কিন্তু গুরু হওয়া তো মুখের কথা নয়, তাঁর যে অনেক দায়িত্ব, অনেক দায়। গুরু পূর্ণিমার পুণ্যক্ষণে তিনি তাঁর শিষ্যের সমস্ত পাপ-তাপ হরণ করে নিজের মধ্যে গ্রহণ করেন, দান করেন অমোঘ চৈতন্য। আধার বিশেষে কেউ তা নিতে পারেন, কেউ বা পারেন না। এক্ষেত্রে আধারবিহীন শিষ্যের অবস্থাটা হয় সেই ব্রাহ্মণের মতো, ভগবান যাকে দরিদ্র দেখে দয়া করে তার অবস্থা ফিরিয়ে দেবার জন্য পথের মাঝে রেখে দিলেন মহামূল্যবান রত্ন, কিন্তু মূর্খ ব্রাহ্মণ তখনই চোখ বন্ধ করে পথ চলা যায় কিনা দেখার জন্য রত্ন ডিঙিয়ে পেরিয়ে যায়। তবু গুরুর কৃপাপথ তাদের সামনে খোলাই থাকে, গুরু বারে বারে তাদের পাপ হরণ করেন, আর পরমেশ্বরের কাছে আকুতি জানান, তাঁর সন্তানদের যেন ‘চৈতন্য’ হয়। পরমপুরুষ রামকৃষ্ণদেব আর মা সারদার অপত্যস্নেহ ও উদারতায় সেই বাণীই আমাদের অজ্ঞানতা-অন্ধকারে পথ দেখিয়েছে বারে বারে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *