নীল রায়
কেষ্টর ‘নকুলদানা’ বা ‘পাঁচন’ কোনওটাই পছন্দ নয় নদিয়াবাসীর। তাই দয়া করে কেষ্টকে পাঁচন এবং নকুলদানা দিতে বারন করুন। এভাবেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করলেন নদিয়া জেলার এক বিধায়ক। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে নদিয়া জেলা তৃণমূলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার কাজের পাশাপাশি লোকসভা ভোটে দলের প্রস্তুতি নিয়েও কথা হচ্ছিল। বৈঠকের এক সময় কথা বলতে ওঠেন নদিয়া জেলার এক তৃণমূল বিধায়ক। সূত্রের খবর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন, নদিয়া জেলার ভোট প্রচারে অনুব্রত মণ্ডলকে যেন ‘নকুলদানা’ কিংবা ‘পাঁচনের’ মত শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। কেষ্টর এহেন দাওয়াই নদিয়াবাসীর বদহজমের কারণ হতে পারে। ফলস্বরূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ভোট কমতে পারে দলের। আর লোকসভা নির্বাচনে ভোট কমার অর্থ সবাই জানে। তাই ওই বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন, নদিয়ায় কেষ্ট মণ্ডলকে এহেন কড়া দাওয়াই না দিতে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা জানান এমন কথা বললে মনে কষ্ট পেতে পারেন অনুব্রত। বস্তুত, কখনও পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে বিরোধীদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার উস্কানি দেওয়া, কখনও পুলিশকে বোমা মারা কিংবা চড়াম চড়াম ঢাক বাজানোর কথা বলে বিতর্ক তৈরি করা। কখনও আবার গুড় বাতাসা খাওয়ানোর কথা বলে অনুব্রত মণ্ডল রাজনৈতিক সন্ত্রাস করে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। একাধিকবার নির্বাচনে কমিশনের দ্বারা সতর্কিত হয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাতে অবশ্য দমে না গিয়ে নিজের স্টাইলের রাজনীতি করা বহাল রেখেছেন দিদির কেষ্ট। এবারের লোকসভা ভোটে নদিয়া জেলায় অনুব্রত মণ্ডলের ভাষণে এমনই শব্দ বন্ধনী ব্যবহার হলে দলের ভোট ব্যাঙ্কের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক তৃণমূল নেতাই। বৈঠক প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি নদিয়া জেলা তৃণমূলের কোনও বিধায়কই। সম্ভবত বিধায়কের ওই আবেদন নাকচ হয়ে গিয়েছে বলেই খবর মিলেছে। তাই চলতি লোকসভা নির্বাচনে নদিয়া জেলার রানাঘাট ও কৃষ্ণনগরে অনুব্রত মন্ডলের বিখ্যাত ‘নকুলদানা’ র সঙ্গে ‘পাঁচন’ তত্ত্ব বজায় থাকবে। অবশ্যই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news