ভাস্কর মান্না:
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্তের একযোগে সমালোচনা করলেন কংগ্রেস, সিপিএম সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। শনিবার কংগ্রেস নেতা সিব্বল বলেন, কর্পোরেট কর কমানোর ফলে ধনীদের লাভ হল। গরীবদের কোনো লাভই হল না। গরীবরা সেই অন্ধকারেই রয়ে গেল। আমরা বারবার বলে আসছি এই সরকার গরীব বিরোধী সরকার, তা আবার প্রমান হল।
শুক্রবার বেসামাল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কর্পোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় মোদী সরকার। এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন, বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ৩৪.৯৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫.১৭ শতাংশ কর দিতে হবে। এছাড়া নতুন কারখানা খুললে ২৯.১২ শতাংশের পরিবর্তে ১৭.০১ শতাংশ কর্পোরেট কর দিতে হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব ক্ষতি হবে প্রায় ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। এটি সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ বলেই দেখছে অর্থনীতি মহল। সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে এদিন দিনের শেষে শেয়ার বাজারও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু সরকারের এই ঘোষণায় গরীব মানুষের কোনো উপকার হবে না বলেই মনে করছে বিরোধীরা। এদিন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল বলেন, গরীব মানুষের অন্ন ছিনিয়ে নিতে চাইছে মোদী সরকার। প্রাক্তণ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী বলেন, শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা করতেই মোদী এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের এই বিপুল রাজস্ব ক্ষতি প্রসঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি দাবি করেন, রিজার্ভ ব্যাংকের থেকে টাকা ছিনিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর শিল্পপতি বন্ধুদের হাতে তুলে দিলেন।
তবে বিরোধীদের এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটিকে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “নতুন লগ্নি আসবে। নতুন কারখানা খোলায় করের হার কমানো বিদেশি সংস্থাগুলিও এদেশে কারখানা তৈরি করবে। চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে চীন থেকে অনেক সংস্থাই কারখানা ঘটাতে চাইছে। তারা এ বার এ দেশে আসার কথা ভাববে।” আর এই সকল সম্ভব হলেই স্বাভাবিক ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। ফলে এতে ঘুরপথে হলেও গরীবদেরই সুবিধা হবে। তবে সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা সুরাহা হয় সেদিকেই তাকিয়ে অর্থনীতি মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news