নীল রায়।
ওড়িশার আটটি লোকসভা আসনে লড়াই করতে চেয়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতাদের কাছে কাছে আবেদন জানাল ওড়িশা তৃণমূল। পুরী, ভুবনেশ্বর, ভদ্রক, কটক, ময়ূরভঞ্জ, বরাগড়, বালেশ্বর ও জাজপুর লোকসভা আসনে প্রার্থী দিতে চেয়ে ওড়িশার তৃণমূল নেতারা আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। রবিবার ভুবনেশ্বরের পার্টি অফিসে এসেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। সেখানে এক বৈঠকের ডেরেক ওড়িশার সংগঠন প্রসঙ্গে জানতে চান। নেতারা জানান ওড়িশার মোট ৩০ টি জেলার মধ্যে ১২ টি জেলায় সাংগঠনিক কাজ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ওড়িশার কুড়িটি আসনের মধ্যে মাত্র ৮ টি লোকসভা আসনে লড়াই করার মত শক্তি জোগাড় করতে পেরেছেন তারা। ওড়িশার জোড়া ফুলের নেতারা চান বিকল্প শক্তি হিসেবে ওই ৮ আসনগুলিতে লড়াই করুক তৃণমূল। তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র কোনও আশ্বাস না দিলেও ওড়িশা প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন তাদের । সঙ্গে আরও জানিয়েছে আগামি দিনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রথম সারির নেতারা কলিঙ্গ রাজ্যে এসে এ ব্যাপারে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানাবেন। প্রশ্ন উঠছে এই আসনগুলো কি কারণে বেছে নেওয়া হল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য? সেক্ষেত্রে ডেরেক ও ব্রায়েনকে বোঝানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দল তৃণমূল কংগ্রেস, আর জননেত্রী হিসেবে বাঙ্গালীদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব যথেষ্ট । আর কটক, পুরী, ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর লোকসভা আসন গুলিতে প্রচুর বাঙালি বাস করেন। তাই নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে সেই মানুষগুলোকে টার্গেট করতে পারলেই সাফল্য মিলবে। আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লোকসভা ভোটে নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়ে যাবে মনে করা হচ্ছে। তার আগে সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা ওড়িশা গিয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে ওড়িশা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত ঘোষ দস্তিদার বলেন, “মোট ১২ টি জেলায় আমরা সাংগঠনিক কাজ দারুণভাবে করেছি। তারই ওপর ভিত্তি করে আমরা আটটি আসনে লড়াই করার জন্য দাবী করেছি। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন করেছি। আশা করি তারা এ বিষয়ে আমাদের অনুমতি দেবেন। এবং আগামী লোকসভা ভোটে ওড়িশা থেকে আমরা লোকসভার সংসদ সদস্য উপহার দিতে পারব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।” উৎকলের রাজনৈতিক মহল মনে করছে বিজু জনতা দলের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর আন্দোলন করে ভোট ও শক্তি দুইই বাড়িয়েছে বিজেপি। কিন্তু সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান মোটেই ভালো নয়। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমলে সরকারের জনবিরোধী নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গরিব মানুষ। বিজেপি বিরোধিতার সঙ্গে ওড়িশা য় বিজেডি বিরোধিতা করে নিজেদের বিরোধী কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পাকা করার লক্ষ্য বাংলার শাসক দলের। নিজেদের সেই পরিকল্পনামাফিকই ৮ টি আসন কে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল শিবির।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news