সূর্য সরকার:
করিমপুর আসনে জয় স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু খড়গপুর সদরের মত অবাঙালি বেল্ট কিংবা কালিয়াগঞ্জ এর মত রাজবংশী আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল, ল্যান্ড স্লাইড ভিকট্রি অবিশ্বাস্য ঠেকছে অনেকের কাছেই। উপনির্বাচনে ৩ আসনেই তাক লাগিয়ে জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কোন পথে এই জয়? কি কি সফটওয়্যার কাজ করতে পারে, তৃণমূল কংগ্রেসের কি অবাক করে দেওয়া জয়লাভের পর বিশ্লেষণে নেমেছে রাজনৈতিক শিবির। তাহলে কি তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ভোট গুরু প্রশান্ত কিশোরের নিখুঁত কৌশল কাজে লেগে গেল? আপাতত সেই সংকেতে সীলমোহর দিচ্ছে রাজনৈতিক মহল। ২৯ জুলাই এর পর থেকে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যে কর্মসূচিতে দেওয়া হয়েছিল দিদিকে বল একটি ফোন নাম্বার। যেখানে ফোন করে সারা রাজ্যের মানুষ নিজেদের অভাব-অভিযোগ সমস্যা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি তৃণমূলের মন্ত্রী বিধায়ক থেকে শুরু করে ডগ সভাপতি এমনকি বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি যাবেন এলাকায় ঘুরবেন, বিধায়ক মন্ত্রীরা নিজেদের এলাকায় ভোটারদের বাড়িতে থাকবেন। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে গ্রামেগঞ্জে অজপাড়াগায় নেমে পড়েছিল শাসক দল। কোথাও শাসক দলের মন্ত্রী বিধায়ক নিজেদের এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন কোথাও আবার সমাদৃত হয়েছেন। কিন্তু থেমে থাকেনি ‘দিদিকে বলো’। যারা সঠিকভাবে ‘দিদিকে বলো’ পালন করেনি তাদেরকে দেওয়া হয়েছে বাড়তি টাস্ক। সব মিলিয়ে করা হাতে তৃণমূল পাঠশালাতে সামলেছেন প্রশান্ত স্যার। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুনেছেন প্রশান্ত কিশোরের কথা একাধিকবার বৈঠক করেছেন তার সঙ্গে দলকে চলতে বলেছেন প্রশান্তের পথে। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনেই করিমপুর কালিয়াগঞ্জ খড়গপুর ৩ আসনের জন্য পৃথক ইশতেহার তৈরি করেছিল তৃণমূল। যা এক কথায় ছিল নজিরবিহীন। কারণ বঙ্গ রাজনীতিতে উপনির্বাচনে কোনদিন একটিমাত্র লোকসভা একটিমাত্র বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পৃথক পৃথক ইশতেহার কখনোই তৈরি হয়নি। ফলে প্রশান্ত কিশোরের এই উদ্যোগ স্থানীয় বিধানসভার মানুষজনকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে বলেই মত অভিজ্ঞ মহলের। তাহলে কি কাজ করে গেল ‘দিদিকে বলো’ ফ্যাক্টর।
কালিয়াগঞ্জ খড়্গপুরের মত হেরে যাওয়া ঘরে নিজেদের পতাকা লাগাতে পেরেছেন ঘাসফুল শিবির। যে কালিয়াগঞ্জ লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল শাসক দল সেখানেই জয় পেয়েছে ঈশ্বর কিছু ভোটে। অন্যদিকে খড়গপুর সহ যেখানে অবাঙালি ভোটার বেশি সেখানে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন লোকসভায় দিলীপ ঘোষ। সেখানেও তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার ২১ হাজারের কাছাকাছি ভোটে জয়লাভ করেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে সেক্টর পিকে, টিম প্রশান্ত কিশোর লেটার মার্ক্স। দিদিকে বলো কর্মসূচিতে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনা, দিদিকে বলো ফোন নাম্বারে ফোন করলে সাধারণ মানুষের সমস্যার সুরাহা হওয়া সব মিলিয়ে একটা নিখুঁত কর্পোরেট কায়দায় উপ নির্বাচনের প্রচার হোক কিংবা সংগঠন সবকিছুকে সাজিয়ে নিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পিছনে অবশ্যই মাস্টারমাইন্ড প্রশান্ত কিশোর। এবার এই জয় আত্মবিশ্বাসী হয়ে তৃণমূল আগামী ২০২১ এর নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনেই তৃতীয়বার হ্যাটট্রিক করার পথে নামবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news