নিজস্ব সংবাদদাতা
বর্ষায় পাতে ইলিশ না পড়লে মাথা গরম হয়না এমন বাঙালির সংখ্যা কম, কিন্তু তা বলে এমন?
হয়েছে কী, এ মাসের শুরুতে এয়ার ইন্ডিয়ার ঢাকা-কলকাতা ফ্লাইট এআই-২২৯ এর এক পাইলট নিজের সঙ্গে আড়াই কেজি পদ্মার ইলিশ নিয়ে আসবেন বলে ঠিক করেন। তাও আবার কার্গোতে নয় সিট ক্যারেজে। কিন্ত লাইসেন্স ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ইলিশের রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকায় এয়ারলাইনের সিকিউরিটি অফিসার ওই পার্সেলটি বিমানে ওঠার আগেই আটকে দেন। ব্যস, আর যায় কোথা? রেগে আগুন পাইলট। ভেবেছিলেন বাড়ি গিয়ে ইলিশ ভাপা খাবেন, তাতে এমন বাধা?
এদিকে বিমানের ৫৪জন যাত্রী তখন যে যার সিটে বসে গিয়েছেন। আর মিনিট পনের পরেই প্লেনের টেক অফ। কিন্তু পদ্মার ইলিশ ছাড়া টেক অফ? কভি নেহী। শোনা যাচ্ছে, ইলিশ আটকে দেওয়ায় পাইলট নাকি সটান প্লেন ছেড়ে চলে যান সিকিউরিটি অফিসারের কাছে। অনেক কথা কাটাকাটির পরও চিঁড়ে না ভেজায় পাইলট রেগেমেগে প্লেনে উঠে পড়েন। নিয়ম ভেঙে সিকিউরিটিকে না জানিয়েই দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ইলিশ ফেলে যাওয়ার রাগে এয়ারক্রাফট রিলিজ সার্টিফিকেট সই না করেই প্লেন টেক অফ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এদিকে ততক্ষণে বিমানটির টেক অফের নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন এই দেরি, ঢাকা এটিসির কাছেও তার কোনও খবর দেওয়া হয়নি। তাই খোঁজ খবর শুরু করে তারা। এবং বিমানটিকে আবারও আটকে দেওয়া হয়। বেগতিক দেখে পাইলট বিমান ফিরিয়ে এনে এয়ারক্রাফট রিলিজ সার্টিফিকেটে সই করে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে খবর। তিনি এটিসিকে এও জানিয়ে দেন সঙ্গে করে এক টুকরোও ইলিশ নিয়ে যাচ্ছেন না। সব জেনে বুঝে অবশেষে নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পর বিমানটিকে রওনা হওয়ার সিগনাল দেয় এটিসি। ঢাকা বিমানবন্দরের তরফে রিপোর্ট পাওয়ার পর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স ওই পাইলটের সেদিনের আচরনের তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত পাইলটকে ওই দিন বিমানটির একঘন্টা লেট করার কারন জানাতে বলা হয়েছে।
আর পাইলটের অবস্থা সে কী বলার! একে পদ্মার ইলিশ হাতছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা, তার ওপর অফিসিয়াল মেমো! বন্ধুদের কাছে এখন তিনি নাক কান মুলছেন। আর যদি ইলিশ খাই!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news