ঈষাণিকা ভোরাই :
পঞ্চায়েত মামলায় শেষ পর্যন্ত পরাজিত হলো তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের সঙ্গেই পরাজিত হলো রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার। বিজেপি ও বিরোধীদের আনার মামলা খারিজের দাবি জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তা আদৌ ধোপে টিকল না। শুক্রবার হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি যা রায় দিয়েছেন তাতে বিরোধীদের আনা অভিযোগই বরং মান্যতা পেয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি সুব্রত তালুকদার জানিয়ে দেন, ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে। সেইসঙ্গে কমিশনের ১০ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তিকেও খারিজ করে দেন তিনি। ফলে নতুন করে মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন ইচ্ছুক প্রার্থীরা। এর ফলে ১-মে থেকে নির্বাচন আর শুরু হচ্ছে না। এখন কমিশনকে নতুন নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে হবে। এদিন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার তার ৩৫ পাতার রায় ঘোষণার পর তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘সিপিএম,কংগ্রেস, বিজেপি একসাথে ভোট বানচাল করতে চেয়েছিল। মহামান্য হাইকোর্টের রায় এ ওদের পরাজয় হয়েছে।’ তবে হাইকোর্ট চত্বরে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিৎকার শুনে মনে হচ্ছিল তিনি নিজের পরাজয় ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। মুকুল রায় বলেন, এই জয় মানুষের জয়, গণতন্ত্রের জয়। বিজেপি এই লড়াইয়ে সামনে ছিল তাই বিজেপি এই রাজ্যে এক কদম এগিয়ে গেল। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন না। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘এই রায়ে প্রমাণিত কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি,ভোটে সন্ত্রাসের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।’ সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘কমিশনের সিদ্ধান্ত আইন সম্মত ছিল না, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।’ পঞ্চায়েত মামলায় মূল মামলাকারী বিজেপির প্রতাপ বন্দোপাধ্যায় জানান, ‘এই জয় পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জয়।’ হাইকোর্ট চত্বরে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিৎকার প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি মন্তব্য করেন, ‘কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিৎকার শুনে মনে হচ্ছে চোরের মায়ের বড় গলা।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news