Home / TRENDING / ‘দু-পয়সার’ প্রথম বার্ষিকী ও ‘চটিচাটার’ চোখ রাঙানি

‘দু-পয়সার’ প্রথম বার্ষিকী ও ‘চটিচাটার’ চোখ রাঙানি

  দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :

বিখ্যাত সাংবাদিক রক্তিম ঘোষকে ধন্যবাদ জানিয়ে, এই রচনায় কয়েকটি কথা নিবেদন করব।
রক্তিম, ত়াঁর ফেসবুক পোস্টে মনে করিয়েছেন যে আজ তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রের বিখ্যাত উক্তির প্রথম বার্ষিকী।

বলা বাহুল্য, তবু বলি, হ্যাঁ এখানে ‘দু-পয়সার সাংবাদিক’ উক্তির কথাই হচ্ছে।

সাংবাদিকদেরও যে একটা দাম আছে, মহুয়ার বক্তব্যে সে কথাই মান্যতা পায়। বিষয়টাকে সদর্থক ভাবে দেখলে মহুয়ার ধন্যবাদ প্রাপ্য!

আবার এটাও ঠিক, মহুয়া যখনই কয়েকজন সাংবাদিকের মূল্য নির্ধারণ করে দেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যাঁরা তাঁর সাক্ষাৎকার নেন তাঁদের দাম কত? বাজারে দু-পয়সার সাংবাদিক থাকলে, দু-টাকা, ২০ টাকা,২০০ টাকা, ২০০০ টাকা, ২০,০০০ টাকা, এভাবে ২ লক্ষ ২০ লক্ষ টাকার সাংবাদিকও থাকবেন! বা আরো বেশি।

লজিক কী বলে?

 

Opinion | Plagiarism of Mahua Moitra's words for West Bengal's benefit

টাকাপয়সার এই অঙ্ক সাংবাদিকদের মান নির্ধারণ করছে নাকি ক্রয়মূল্য, সে আলোচনা আসাও অস্বাভাবিক নয়।

মহুয়ার এই বক্তব্য যেমন অনেক সাংবাদিক ভালো চোখে দেখেন নি, তেমনই এ কথাও শোনা যায় যে তেমন সাংবাদিক ও আছেন যাঁরা বক্তার সঙ্গে একমত।

তাঁরা মনে করেন, আর যে কেউ দু-পয়সার হোন না কেন, তিনি নন। তাঁর বড় হাউজ, বড় লেভেলে যোগাযোগ, বড় মাইনে এবং এমন অনেক কিছু যা আদতে বড়।

এ হেন বড় সাংবাদিকদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন, ‘বাহ! কী বললে!’ ধরনের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, মহুয়ার ক্ষমাপ্রার্থনাটিকেও দুর্বীনিত করে তুলেছিল কিনা, প্রমাণাভাবে তা বলা কঠিন।

আপাত দৃষ্টিতে মহুয়া যাঁদের দু-পয়সার সাংবাদিক বলেছিলেন, জেলার সেইসব সাংবাদিকরা সকাল থেকে উঠে অনেক প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে খবর সংগ্রহ করেন। একজন রিপোর্টারের কবজির জোর তাঁর খবর সংগ্রহের ক্ষমতায়। যাঁর পকেটে যত বড় খবর সে তত বড় সাংবাদিক। বাকি, কার পেটে কত বিদ্যে, কে ব্রিটিশ অ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলতে পারে, এ সবই অলংকার। পকেটে খবর না থাকলে একজন রিপোর্টারের সবই বৃথা। ডেস্কে পুনর্বাসন তাঁর ভবিতব্য।

 

Suvendu Adhikari accused of misleading BJP's central leadership - The Week

এইসব কচকচি মহুয়ার না জানলেও চলে।

এদিকে যখন দূ-পয়সার বর্ষপূর্তি চলছে ওদিকে তখন মাথা তুলেছে চটিচাটা!

মহুয়াকে বয়কট করার কথা কেউ কেউ বলেছিল, এক্ষেত্রে টুঁ শব্দটিও কারো নেই। সকলেই ধরে নিচ্ছে আমি বা আপনি নন, তৃতীয় কোনও সাংবাদিক কে চটিচাটা বলছেন শুভেন্দু। দিনের শেষে আমরা সকলেই যে একটা এডিটোরিয়াল লাইনের দাস, আমরা সকলেই পেশাদার, এ কথা আমরা মনে করতে চাইছি না। শুভেন্দু ও বারবার করে সাংবাদিকদের অপমান করছেন।

আর আমরা?

আমরা প্রয়োজন মতো একে অপরের পিঠ চুলকোতে চুলকোতে অথবা পিঠে ছুরি মারতে মারতে এগিয়ে চলেছি।

আর আরো সবকিছুর মতো দু-পয়সা আর চটিচাটার বাক্যবাণ আমাদের কাছে প্রফেশনাল হ্যাজার্ডর্স এর নয়া সংযোজন হয়ে উঠেছে। আর আমরা গায়ে না মাখার ভান করে কলম অথবা কণ্ঠ চালিয়ে যাচ্ছি।

Spread the love

Check Also

আপনারা সরকারের মুখ বলে আধিকারিক দের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।

চ্যানেল হিন্দুস্থান ডেস্ক: রাজ্যের আমলাদের উজাড় করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার প্রথমে নতুন করে সংস্কার হওয়া …

WBCS দের সভা থেকে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

চ্যানেল হিন্দুস্থান ডেস্ক: WBCS দের সঙ্গে বৈঠক, আর সেখান থেকেই করা বার্তা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের। …

বন্ধ ব্যান্ডেল জংশন

চ্যানেল হিন্দুস্থান ডেস্কঃ রুট রিলে ইন্টারলকিং কেবিন স্থানান্তর ও থার্ড লাইন সম্প্রসারণের জন্য হাওড়া-বর্ধমান মেইন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *