রণবীর ভট্টাচার্য
বেশি দিন আগের কথা নয়। গত বছর ইন্সটাগ্রামে এক ফ্যানের অনুরোধে নিজের ৫০টি স্বপ্নের কথা লিখে জানিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু কোথাও যেন মনে হয়েছিল বড্ড তাড়া, আর তাই চলে যাওয়া। সুপারস্টার সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput), বিহারের পূর্ণিয়ার এক অখ্যাত পরিবারের থেকে বড় হওয়া একজন ৩৪ বছরেই কেন ড্রপ সিন ফেলে দিলেন জীবনে তা কারোর জানা নেই। অনেকেই বলছেন অবসাদ, জানা যাচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের দেখভালের জন্যে চিকিৎসা হয়েছিল তার – কিন্তু তাই বলে চলে যাওয়া? এই করোনা পর্বে দেশ ইতিমধ্যেই হারিয়েছে ইরফান খান, ঋষি কাপুর, সুরকার ওয়াজিদ কিংবা বর্ষীয়ান পরিচালক বাসু চ্যাটার্জির মত মানুষকে। কিন্তু সুশান্তের মত প্রাণবন্ত, ছটফটে একজন এভাবে চলে যাবেন, আপামর ভারতের সিনেমাপ্রেমী কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি।

কোন কাপুর, খান, বচ্চন পরিবারের নয়, নিজের ভালোলাগা থেকেই সিনেমায় অভিনয়ে আসা সুশান্তের। পদার্থবিদ্যায় জাতীয় অলিম্পিয়াড জিতে আসা থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাওয়া, জীবন বদলে দেয় শয়ামক দাভারের নাচের ক্লাস। তারপর পবিত্র রিস্তা সিরিয়ালই হোক কিংবা ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বকসি কিংবা প্রবাদপ্রতিম ভারতীয় অধিনায়ক ধোনির জীবন অবলম্বনে তৈরি বায়োপিক – চোখ ধাঁধানো সাফল্য পেয়েছিলেন সোনালী পর্দায়। সিনেমায় ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, বন্ধুত্বের আঙ্গিনা আলোকিত করেছেন, চোখে জল এনে দিয়েছেন অভিনয়ের মাধ্যমে – এই বিদায় যেন আকস্মিক শূন্যতা করে দিয়েছে সবার মধ্যেই। এখানেই বোধহয় সত্যিকারের সাফল্য আবার একরাশ মন খারাপও!

সারা বছর ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সুইসাইড বা আত্মহননের আটকানোর জন্য পোষ্ট লেখেন, ফোন নাম্বার ও শেয়ার করেন বিভিন্ন এজেন্সির। কিন্তু আদেও কি কাজের কাজ হয়? সোশ্যাল মিডিয়ার এত বন্ধু-বান্ধবী, ফ্যান কিন্তু সত্যিকারের পাশে থাকার মানুষ কি রয়েছে জীবনে? সুশান্ত সিং রাজপুতের এই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কিন্তু অনেক প্রশ্ন তুলে দিল বদলে যাওয়া সমাজ নিয়ে। তবে এমন কিন্তু নয় যে অভিনেতা সুশান্ত বক্সঅফিসের সাফল্যের দিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন। সারা আলি খানের সাথে ‘কেদারনাথ’ কিংবা নেটফ্লিকসে ‘ড্রাইভ’ মন মতো না হলেও শেষ ছিল না। মুকেশ ছাবড়ার ‘দিল বেচারা’ আর দেখা হয়ে উঠল না সবসময়ের হাসি খুশি সুশান্তের।

বছর খানেক আগে কঙ্গনা রানউত একবার বলেছিলেন যে বলিউডে তথাকথিত ‘বাইরে’ থেকে আসা শিল্পীদের জন্যে কতটা কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি পড়তে হয়। সুশান্ত ও
কিন্তু তথাকথিত ‘বাইরের’ থেকেই এসেছিলেন।করোনা পর্বে লকডাউন এর মধ্যে কাজ প্রায় বন্ধ। শুরু হলেও খুবই ঢিমেতালে হবে। এই অনিশ্চয়তা সুশান্তকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিল না তো? একটা প্রজন্ম হয়তো মনে রাখবে দুটো মহেন্দ্র সিং ধোনি ছিল, একজন মাঠের আর আরেকজন পর্দার। তবে সুশান্ত সিং রাজপুতকে আমরা সেভাবেই মনে রাখব যেভাবে আমরা রবিন উইলিয়ামস বা হিথ লেজারকে মনে রেখেছি।

আমরা ভারতীয়, সিনেমা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে সংস্কৃতির সাথে। সুশান্ত সিং রাজপুতের অভিনীত কাজ আমরা যতবার দেখব, ততবার নতুন করে ওনাকে ভালোবাসব। ওনার পরিবার, কাছের মানুষ, অজস্র ফ্যান সবাইকে অনেক সমবেদনা রইল।

সুশান্ত স্বপ্ন দেখেছিলেন অন্ধ প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার কোডিং বানানো শেখাবেন আর ১০০ জন শিশুকে নাসায় ওয়ার্কশপে পাঠাবেন। অনেক কিছুই বাকি থেকে গেল এই জীবনে!
(মানসিক অবসাদ কোন রোগ নয়। শুধু পরিবারের মানুষ বা বন্ধু-বান্ধবীদের জানানো নয়, এর নিয়মিত সুচিকিৎসা করানো দরকার উপযুক্ত ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে)
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news