চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
বেসরকারি বাস রাস্তায় নামাতে নাজেহাল অবস্থা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পিছনে ফেলে নিজের দায়িত্ব নিয়েও কিছুতেই সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না তিনি। অনুরোধের পর ভর্তুকি টোপ দিয়েও বেসরকারি বাস মালিকদের মন গলাতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে যখন নাজেহাল অবস্থা সাধারণ যাত্রীদের। তখনই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়ে সাধারণ বাস মালিকদের সুরাহা দিতে মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিলেন কংগ্রেসের (Congress) লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাস ভাড়া বৃদ্ধির দাবির পেছনে সব থেকে বড় কারণ তেলের মূল্যবৃদ্ধি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনি মনে করলেই তেলের দাম অনেকটা কমাতে পারেন যদি ভ্যাট (VAT) কমিয়ে দেন। বাস মালিকদের জন্য তেল সস্তায় দিন। যদি এটা আপনি করতে পারেন তাহলে সমস্যার অনেকটা নিরসন হবে। বাস মালিকদের যুক্তি কিন্তু ন্যায়সঙ্গত। আপনার গোঁয়ারতুমি আর বাস মালিকদের যুক্তির মাঝে যাত্রীদের যে জানের জ্বালা ‘দিদি ভাই'”।
প্রসঙ্গত, গত ২১ দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এমতাবস্থায় লকডাউনে আর্থিক ক্ষতি ও ক্রমবর্ধমান পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়ায় বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন। কিন্তু রাজ্য সরকার পুরোনো ভাড়াতেই বাস চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন বেসরকারি বাস মালিকদের। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ সিন্ডিকেটের কর্মকর্তা তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন কোনওভাবেই তারা ভাড়া না বাড়ালে বাস নামাবেন না।
এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বেজায় চাপে পড়েছে। বর্ধমান পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সরব হয়েছে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সেই সুযোগেই প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পেট্রোপণ্যের দাম থেকে রাজ্য সরকারের প্রাপ্য ভ্যাট বাদ দিয়ে বাস মালিকদের সুরাহা দিতে বলেছেন। বহরমপুরের সাংসদের এমন কৌশলী পরামর্শ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, পেট্রোপণ্যের দাম যতই বৃদ্ধি হোক না কেন, আর ওপর যে ভ্যাট বসানো হয় তা রাজ্য সরকারের প্রাপ্য। পেট্রোপণ্যের মূল্য থেকে ভ্যাট বাদ দিলে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য অনেকটাই কমে যাবে। যার ফলে রাজ্য সরকার বাস মালিকদের বাস নামাতে চাপ তৈরি করতে পারবে। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার (Mamata Banerjee Govt.) এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, ভালোই বোঝেন ঝানু রাজনীতিক অধীর চৌধুরী। এই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করে পাল্টা চাপে ফেলতে চেয়েছেন রাজ্য সরকারকে।
কিন্তু অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) এহেন পরামর্শের পর নবান্ন কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী। কারণ আনলক ফেজ ওয়ানের শুরুর সময় থেকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে আমজনতাকে। রুটি-রুজির কারণে যেমন রাস্তায় নেমে নাকাল হতে হচ্ছে তাদের। বাসের সংখ্যা কম থাকায় সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না। এখনও করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ভ্রুকুটি পৃথিবীর বুক থেকে কাটেনি। অবস্থায় এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে করোণা সংক্রমন শহর কলকাতার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news