দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় 
প্রসেনজিত ধর 
রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত যতগুলি বিবৃতির বোমা ত্বহা সিদ্দিকি ফাটিয়েছেন, তাঁর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফাটানো বোমাটি সম্ভবত সবচেয়ে সাংঘাতিক!
এদিন দুই বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভাস্কর ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, “দিনের বেলা যারা তৃণমূল, রাতে তারাই আরএসএস -বিজেপি।” এরপর রাজ্য সরকার তথা শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলে ত্বহার মন্তব্য, “ধুলাগড়, দেগঙ্গা, বাদুড়িয়ায় যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের অনেকেই তৃণমূল “। সরাসরি না বললেও তাঁর এক নিশ্বাসে বলে যাওয়া দুটি বক্তব্য দু’য়ে দু’য়ে চার করলে এটাই দাঁড়ায় যে, তৃণমূলেরই একটি অংশ রাতের বেলা বিজেপি-আরএসএস সেজে ‘দাঙ্গা’ করছে।
রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষের কাছে ফুরফুরা শরিফের গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। সংখ্যালঘুরা তো বটেই, ফুরফুরা যেহেতু পীরের দরগা তাই অন্য সম্প্রদায়য়ের মানুষেরও নিত্য যাতায়াত আছে ফুরফুরা শরিফে।
রাজ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনায় সরকার ও শাসকদল একতরফা বিজেপিকেই দায়ী করেছে। শাসকদলের সঙ্গে গলা মিলিয়েছে অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলগুলিও। ত্বহার এদিনের বক্তব্য এইসব রাজনৈতিক দলের দাবির সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে চিহ্নিত করে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে অচ্ছুত করে রাখার যে নিরন্তর চেষ্টা তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও বামেদের তরফে চালান হয়, সেই চেষ্টার বাড়া ভাতেও এদিন ছাই ফেললেন ত্বহা। অন্তত এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কারণ এদিনই ত্বহা বলেছেন, “সাম্প্রদায়িকতার জন্যে শুধু বিজেপিকে দায়ী করা যায় না। সব দলই সাম্প্রদায়িক কাজকর্ম করে।”
ত্বহা সিদ্দিকি শুধু বলেই থেমে থাকছেন না, তাঁর চ্যালেঞ্জ, “আমি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারি কারা, কিভাবে সাম্প্রদায়িকতায় যুক্ত। ”
এদিন ত্বহার বক্তব্য রাজ্য বিজেপিকে কিছুটা সুবিধে করে দিল বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
অন্তত সাম্প্রদায়িকতা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ত্বহার এদিনের অভিমত বিজেপি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলেই অভিমত রাজনৈতিক মহলের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news