নীল রায়।
জেএনইউতে (JNU) এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষের (Oishi Ghosh) আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে সারা দেশ। আর এমন ঘটনা চাক্ষুষ করে বামফ্রন্ট (Leftfront) জামানায় তাদের ওপর হওয়া এসএফআইয়ের নির্যাতনের একাধিক ঘটনার কথা স্মরণ করলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেতারা। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন রাজনীতি থেকে রঙ্গমঞ্চ, এখন সবই যেন হাটখোলা বাজারের বিকিকিনি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সুজিত সাম সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বাম জমানায় এসএফআইয়ের সন্ত্রাসের কথা।

সেই পোস্টে বাম জমানায় কলেজ ও কলেজের ইউনিয়ন রুমে এসএফআইয়ের তাণ্ডবের কথার উল্লেখ করে বহু সতীর্থকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিগত দশকের কথা। ঐশী ঘোষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-নেত্রীরা নিন্দায় সরব হয়েছেন। অবাক করার মতো বিষয় হল এই যে, প্রাক্তন ছাত্রনেতার এহেন পোস্টে দেদার কমেন্ট করেছেন তাঁর এক সময়ের ছাত্র আন্দোলনের সতীর্থরা। ‘কমেন্ট’ করেছেন বর্তমান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য স্তরের পদাধিকারিরাও। এই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন ২০০৯ সালের দীনবন্ধু এন্ড্রয়ুজ কলেজে তৎকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) সভাপতি প্রণবেশ মণ্ডলের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। ওই বছর ছাত্র সংসদ ভোট সংক্রান্ত কাজে গিয়ে আক্রান্ত হন প্রণবেশ। এসএফআই (SFI) নেতা-কর্মীদের আক্রমণে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পাশাপাশি, ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ওই ছাত্রনেতার চোয়াল ও ডান পা। মাথায় পড়েছিল ১৪টি সেলাই। রক্তাক্ত অচৈতন্য অবস্থায় প্রণবেশকে কলেজ থেকে উদ্ধার করে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরাই।
সেই ঘটনার কথা ভাবলে এখনও শিউরে ওঠেন সোনারপুর রাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর প্রণবেশ মণ্ডল। এতদিন পর সতীর্থ সুজিত সাম তাঁর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করায় তাঁকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন পেশায় আইনজীবী প্রণবেশ। তিনি বলেন, “২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দীনবন্ধু এন্ড্রয়ুজ কলেজে ঘটা ওই ঘটনায় মারা যেতে পারতাম। কিন্তু, ঈশ্বর পরম করুণাময়, তাই বেঁচে আছি। তিনটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলেছিল। আজ ঐশীর আক্রান্ত হওয়ার পর এসএফআইয়ের বন্ধুদের গণতন্ত্রের দাবিতে সরব হতে দেখে ভালো লাগছে। মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরাও সরব হয়েছেন। কিন্তু আমরা তৃণমূল কর্মীরা যখন বছরের পর বছর সিপিএম ও এসএসআইয়ের হাতে আক্রান্ত হয়েছি। তখন এদের কাউকে সরব হতে দেখিনি।”
বাম জমানায় বাঁকুড়াতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা সুদেব ঘটকের ওপরেও প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ ছিল এসএফআইয়ের বিরুদ্ধে। সেই হামলার কথাও নিজের ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন সুজিত সাম। নিজের স্মৃতিচারণা প্রসঙ্গে এই প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্রনেতা বলেন, “সিপিএমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে এসএফআই যে সন্ত্রাস করে বেড়াত, তা জেএনইউয়ের ঘটনার থেকে কোনও অংশে কম নয়। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি হত। আজ সিপিএম ক্ষমতাহীন, তাই ওদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনছি। ক্ষমতা ফিরে পেলে ওরা কতটা ভয়ঙ্কর, তা ১৯৭৭-২০১১ সালের শাসনকাল বলে দিচ্ছে। নিজেদের রক্ত ঝরলে, তবেই বোঝা যায় রক্তের মূল্য।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news