নীল বণিক
রাজীব কুমারের রিপোর্টেই কি সরতে হল জয়া দত্তকে? প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অন্দরেই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কলেজগেটে তোলাবাজদের ধরতে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের গুণ্ডা দমন শাখা তদন্তে নামার পর বেশ কয়েকজন জয়া দত্ত অনুগামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কলেজ গুলিতে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের তোলাবাজি আটকাতে বুধবার খোদ কলকাতা পুলিশ কমিশনার তদন্তে নামেন। তদন্তে নামার পর একটি রিপোর্ট কলকাতা পুলিশ কমিশনার নবান্নে জমা দেন। লালবাজার সূত্রের খবর জয়ার অনুগামীরাই ভর্তির নামে কলেজগেট থেকে টাকা তুলছেন। তদন্তে কলকাতা পু্লিশের গুণ্ডাদমণ শাখা এমনটাই জানতে পেরেছেন। জয়া দত্তের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন ছাত্র নেতা ফুলেফেঁপে রাতারাতি কলাগাছ হয়ে উঠেছে। এমন রিপোর্টও কলকাতা পুলিশের হাতে এসেছে। তৃণমূল ছাত্রপরিষদের সভানেত্রীর নিজের অনুগামীদের ওপর জয়া দত্তের ছিল অগাধ বিশ্বাস। সেই সূযোগকে কাজে লাগিয়েও একাধিক ছাত্রনেতা নিজের পকেট ভারি করেছেন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন জয়ার বিরুদ্ধে দলে অভিযোগ জমা পরলেও এতদিন সেভাবে তৃণমূল ভবন কান দেয়নি। তবে এবারের কলেজের ভর্তি হওয়ার জন্য টাকার ব্যাপার প্রকাশ্যে আসতে প্রথমেই নড়েচড়ে বসেন খোদ রাজ্যের মু্খ্যমন্ত্রী। দলেও জয়ার বিরোধীরা একের পর এক তথ্য সহকারে তৃণমূল ভবনে রিপোর্ট জমা করেছেন বলে সূত্রের খবর। তৃণমূল নেত্রীর আস্থা ভাজন হওয়ায় জয়ার প্রতি হাত লাগাতে কেউ সাহস পাচ্ছিলেন না। তবে কলকাতা পু্লিশ কমিশনারের রিপোর্টের পর তৃণমূল নেত্রী স্বয়ং নড়েচড়ে বসেন। খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায় উপলব্ধি করতে পারেন ছাত্র সংগঠনে একটা বড় ধাক্কা দিতে হবে। না হলে ছাত্র সংগঠনকে সামলানো আগামিতে আরও কঠিন হবে। তাই তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের একেবারে কঠোর বার্তা দিতে মাথাতেই আঘাত করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই জন্যই দলের ছাত্র সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের সভানেত্রী জয়া দত্তকে সরাল রাজ্যের শাসক দল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news