Breaking News
Home / TRENDING / প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে, বীরভূমে সিপিএমের দখল করা পার্টি অফিস ফিরিয়ে দিল অনুব্রতবাহিনী

প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে, বীরভূমে সিপিএমের দখল করা পার্টি অফিস ফিরিয়ে দিল অনুব্রতবাহিনী

নীল রায়।

ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের দেওয়া নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে বীরভূমের রজতপুরের দখল করা পার্টি অফিসটি সিপিএম নেতৃত্বকে ফিরিয়ে দিল তৃণমূল। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দুর্গে এমন উলট পুরাণ দেখে অনেকেই ভ্রুরু কুঁচকেছেন। কিন্তু এমন ঘটনার পিছনে রয়েছে আখেরে বিহারী ভোট গুরু প্রশান্ত কিশোরের একটি নির্দেশনামা। এখন তৃণমূল নেতৃত্ব জুড়ে শুধুই প্রশান্ত বন্দনা! ঠিক যেন “প্রশান্ত বাবা পার করেগা!”

গত শুক্রবার কালীঘাটের তৃণমূলের জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। গুরুতর অসুস্থ হয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাই প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাননি অনুব্রত মণ্ডল। লোকসভা ভোটে হারের জেরে পিসি-ভাইপোর ধরে আনা ভোটগুরুর ক্লাস না করলেও, তাঁর নির্দেশ সতীর্থদের মারফত পেয়ে গিয়েছেন কেষ্ট মণ্ডল। আলাপচারিতা পর্বের বৈঠকে প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের জেলা সভাপতিদের পরামর্শ ছলে নির্দেশ দিয়েছিলেন, “বিরোধী সব রাজনৈতিক দলগুলিকে এলাকায় এলাকায় নিজেদের মত করে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে কোনও বাধা দেবেন না।” সঙ্গে ভোটগুরুর নিদান ছিল, “প্রয়োজনে বিরোধী দলের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

বস্তুত, ২০২১ সালে ফের নবান্ন দখল করতে গিয়ে গেলে গুরুদেব প্রশান্তর বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে বলে দলের নেতাদের জানিয়েছেন দিদি। তাই আর কালবিলম্ব না করে “জয় দিদি” বলে কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনুব্রত। তারই ফলস্বরূপ ২০১৭ সালের বোলপুরের রজতপুর এলাকার দখল করা সিপিএমের পার্টি অফিসটি ফিরিয়ে দেওয়া হল। সোমবার রাতে এলাকার সিপিএম নেতাদের বাড়ি গিয়ে তাদের পার্টি অফিসটি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানান তৃণমূল নেতারাই। সঙ্গে তাদের পার্টি অফিসের চাবি দিয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, পার্টি অফিস ফিরিয়ে দেওয়ার আগে তাতে চুনকাম করে তৃণমূল কংগ্রেসের নামও নিশান মুছে দিয়েছেন কর্মীরাই। প্রশান্ত কিশোরের মিডাস টাচেই কিনা জানি না। এবার তৃণমূল জমানা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শুভ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, এমনটাই মত বাংলার ভোট বিশেষজ্ঞ তথা বিশিষ্ট অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে বিজেপিতে চলে যাওয়া বাগদার বিধায়ক দুলাল বর বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত নিরলসভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের যুক্ত ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখেই তৃণমূল নেতারা এখন রত্নাকর থেকে বাল্মিকী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এই দুই বছরে সিপিএম ও কংগ্রেসকে অক্সিজেন দেওয়া, যাতে বিরোধী ভোট ভাগ করা যায়। সেই প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ থেকে নিচুতলার নেতা-কর্মীরা গত ৮ বছরে যে পরিমাণ পাপ করেছেন, তা এই দু’বছরে ধোয়া সম্ভব হবে না। যতই ভাড়া করে বাইরে থেকে গুরুদেব আনা হোক!”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *