চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
তৃণমূল (TMC) বিধায়কদের বিদ্রোহ বেড়েই চলেছে। দলীয় বিধায়করা বিদ্রোহ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার প্রকাশ্যেই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন কোচবিহার জেলার সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক। সভা মঞ্চে হাজির জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়, দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের সামনেই রাখঢাক না করে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর পাশেই দাঁড়ান বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। অভিযোগের সুরে তিনি বলেছেন, “লোকসভা নির্বাচনে যারা অন্তর্ঘাত করেছে, তারাই এখন দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মিহির গোস্বামীর প্রতি যে অবহেলা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়। দল থেকে তাঁকে ঠেলে বের করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু নেতা উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন, যাতে মিহিরবাবু দল থেকে চলে যান।”
জগদীশ বর্মা বাসুনিয়খ বলেন, “মিহিরবাবুর মতো প্রবীণ নেতৃত্বের প্রতি ওই ধরনের বক্তব্য কখনই উচিত নয়। জেলা সভাপতির কিছু অনুগামীরা এটা করছেন । দল শক্তিশালী থাক সেটা তারা চায় না।” তিনি বলেন, “আমাদের কিছু নেতা আছেন যারা আলটপকা কথা বলেন। মানুষকে খোঁচা দিয়ে বিপথে ঠেলে দেওয়া যায়, সেটাই তাদের উদ্দেশ্য। যারা নিজেদের পদ না পেলে উলটো কথা বলত, তারাই এই ধরণের মন্তব্য করছেন। শুধু তাই নয় গত লোকসভা নির্বাচনে যারা বিজেপির দালালি করে দলের প্রার্থীকে হারিয়েছেন, তারাই এখন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।” মিহির গোস্বামী, উদয়ন গুহ, শীলভদ্র দত্ত সহ শুভেন্দু অধিকারী যে বিদ্রোহের আগুন তৃণমূলের অন্দরে জ্বালিয়েছিলেন তা তৃণমূলের অন্দরে সংক্রমিত হতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় দেখাচ্ছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিদ্রোহী বিধায়কদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে কোনও রকম ব্যবস্থা নিতে পারেনি তাঁরা।
কোচবিহার জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তালিকা প্রকাশের পরই বিদ্রোহ করেন বিধায়ক মিহির গোস্বামী। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি নিজের দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে দেন। পর থেকেই একের পর এক ফেসবুক করে বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক। এদিন জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া তাঁকে সমর্থন করে তাদের অস্বস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news