Breaking News
Home / TRENDING / বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচিতে মমতারই তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল বিধায়ক আবদুল করিম

বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচিতে মমতারই তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল বিধায়ক আবদুল করিম

নিজস্ব প্রতিনিধি।

ইসলামপুর বিধানসভার ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচিতে প্রবীণ বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরীর গলায় শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কড়া সমালোচনা। শনিবার দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কার্যত বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতোই‌ দলনেত্রীর সমালোচনা করলেন তিনি। করিম চৌধুরী বলেন, “বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক মিটিং করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের দেওয়া তথ্য দেখে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে চরম ভুল করছেন। চলতি মাসের ৩ তারিখ কালিয়াগঞ্জ কলেজ মাঠে মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের একটি মিটিং করতে আসেন। সেখানে তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। যেটা সম্পূর্ণ ভুল। মুখ্যমন্ত্রীকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল ওই মিটিংয়ে উপস্থিত দলের বিধায়ক ও নেতৃত্বের থেকে সঠিক তথ্যটা জেনে নেওয়া। তাঁরাই মুখ্যমন্ত্রীকে বাস্তব পরিস্থিতিটা জানাতে পারতেন।”

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইসলামপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগারওয়ালের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আব্দুল করিম চৌধুরী (Abdul Karim Chowdhury)। ওই বছরই কংগ্রেস ছেড়ে কানাইয়ালাল তৃণমূলে যোগ দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়েন করিম চৌধুরী। নতুন রাজনৈতিক দল বিজেপির সঙ্গে আলোচনায় চলিয়েছিলেন এই উত্তরবঙ্গের এই প্রবীণ নেতা। একসময় নির্দল প্রার্থী হিসেবে রায়গঞ্জ লোকসভাতে লড়াইও করার ভাবনা ছিল তাঁর মাথায়। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কানহাইয়ালাল আগারওয়াল তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী হলে ইসলামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ইসলামপুর উপনির্বাচনের শুভেন্দু অধিকারী এই প্রবীণ নেতাকে তৃণমূলের ফিরিয়ে প্রার্থী করেন। জয় পেয়ে বিধানসভার সদস্য পদ ফিরে পেয়েছেন তিনি। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনীতিতে তিনি বেশ কোণঠাসা বলে জানা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই কোণঠাসা অবস্থা থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় সরব হয়েছেন আব্দুল করিম চৌধুরী।

এদিন তিনি বলেন, “জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। উন্নয়নের কাজও হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কদের বলার সুযোগ না দেওয়ার পরেও আমি ওই মিটিংয়ে উঠে দাঁড়িয়ে কয়েকটি অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আমাকে সময় দেননি। আমাকে আসল পরিস্থিতি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর ফ্লাইট ধরার তাড়া আছে বলে আমাকে থামিয়ে দেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছি, এরপর থেকে জেলার বিধায়ক ও নেতৃত্বের সাথে কথা না বলে এবং তাঁদের থেকে বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশংসা করে দরাজ সার্টিফিকেট দেবেন না।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *