নিজস্ব সংবাদদাতা :
জয়ী নির্দলরা আসলে কোন দল? বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বলতে আসলে কী বোঝায়! জেতার পর তাদের কী ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে! তারা কী আবার গুটি গুটি পায়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবেন! নাকি তারা ঢলে আছেন বিজেপির দিকে! তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় আগে বলেছিলেন যে বিক্ষুব্ধদের আর দলে ফেরানো হবে না। পার্থর হুমকিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বিক্ষুব্ধরা লড়েছেন এবং রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় তারা ব্যাপকভাবে জয়লাভ করেছেন। বিক্ষুব্ধদের প্রতি এমন উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন দেখে তৃণমূলও তাদের পূর্ববর্তী কড়া অবস্থান বদল করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসি মুখে বলেছেন নির্দলরা তাঁর দলের কাছে আবেদন জানিয়েছে। যদিও এ হেন আবেদন রীতিমত চিঠি লিখে জানাতে হয়। তেমন কোনও আবেদনপত্রের হদিশ এখনও কেউ কোথাও পেয়েছে বলে জানা যায়নি। এদিকে খেজুরিতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল বনাম নির্দলের সংঘর্ষ চলছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত যে ছবি উঠে আসছে তা আর যাই হোক না কেন সে ছবি দলে ফেরার আবেদন জানানোর ছবি নয়। বরঞ্চ বিক্ষুব্ধদের দাপটে সেখানে পুলিশ পিকেট বসাতে হয়েছে। তবুও অশান্তি থামছে না। পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারি গড়ে শাসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মুখের কথা নয়। রাজনীতির খবর যারা রাখে তারা জানে মেদিনীপুরে মাথা তুলতে কতটা ‘হিম্মতের’ দরকার হয়।
আবার নদিয়ায় শঙ্কর-উজ্জ্বল-গৌরীরা মাঠে নেমেছেন নির্দলের মন গলাতে। কয়েকদিন আগে যে নির্দলদের দুর ছাই করছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা, তারাই এখন রাতারাতি দামি হয়ে উঠেছেন তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে। এমনিতেই বিরোধী শুন্য হয়নি পঞ্চায়েত। এত রক্ত ঝরিয়েও তা করা সম্ভব হয়নি। গণনার দিনে ছাপ্পা মেরেও বিরোধীশুন্য পঞ্চায়েতের ‘গর্ব’ অধরাই রয়ে গেছে। এমনকি বীরভূমে অনুব্রত ও পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দুর জেলা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়লাভের খেতাব পেয়ে গেছিল! তবে শেষ পর্যন্ত শেষরক্ষা হয়নি। বিরোধীশুন্য পঞ্চায়েত মমতাকে উপহার দিতে পারেননি শুভেন্দু বা অনুব্রত। এর ফলে কালীঘাটে তাঁদের নম্বর কমতে পারে! শুধু তাঁদের নয়, রাজ্যের যেখানে যেখানে বিক্ষুব্ধরা মাথা তুলেছে সেখানেই এখন চাপ বেড়েছে স্থানীয় নেতৃত্বের।
একটি খবর প্রত্যাশিতভাবেই বাজারে ভাসছে যে এইসব বিক্ষুব্ধ আসলে মুকুল রায়ের লোক। তারা নিয়মিত যোগাযোগও রাখছে মুকুলের সঙ্গে।
আর এই খবরে আরও চাপ বাড়ছে তৃণমূলের। তারা যে কোনও মূল্যে এখন ঘরে ফেরাতে চাইছে বিক্ষুব্ধদের। নির্দলের জয় যদি দিনের শেষে মুকুলের জয় বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তাঁদের কপালে দুঃখ আছে তা তাঁরা জানেন! মুকুল রায় ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন, মমতা ঘোড়া কেনাবেচায় সিদ্ধহস্ত। এই মন্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট যে বিক্ষুব্ধদের আবার দলে টানতে তৃণমূল কোনও সাধু পন্থা অবলম্বন করছে বলে তিনি মনে করেন না। রাজনীতিতে পেশি শক্তি কিংবা অর্থ বলের যথেচ্ছ ব্যবহার এখন আর কোনও গোপন কথা নয়। একজন সিনিয়র রাজনীতিক ও তৃণমূল নেতা মানছেন যে টিকিট বিলিতে গলদ ছিল। পুরনো লোকেদের প্রার্থী করা হয়নি।
বিক্ষুব্ধরা তাদের দলের পেশি শক্তির সঙ্গে যুঝে জয়ী হয়েছে। সেই শক্তিতে তাদের আর ফিরিয়ে আনা যাবে বলে দলের নেতরাই মনে করছেন না। তাহলে কী অর্থবল! মুকুলের কথা মতো রাজনীতির ঘোড়া কেনাবেচায় ‘সিদ্ধহস্ত’ মমতা বা তাঁর দলের নেতারা কী নির্দলকে দলে আনতে এই পন্থাই অবলম্বন করছেন! রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news