নিজস্ব সংবাদদাতা
ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে, ইনশাল্লা! ইনশাল্লা!
কিছুদিন আগে এই স্লোগান নাকি শোনা গেছিল দেশের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার সেই কথাই আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট ভাবে শোনা গেল দেশের সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী, বর্তমানে বিরোধী দলনেতা করুণানিধি পুত্র, ডিএমকে নেতা স্ট্যলিনের গলায়। সাংবাদিকের একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “যদি কোনও দিন দক্ষিণের রাজ্যগুলি নিয়ে আলাদা করে একটি রাষ্ট্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় তাকে সর্বদা সমর্থন জানাব।” পেরিয়ার এক সময় এমন কথা বলেছিলেন ঠিকই, এটাও ঠিক ডিএমকের জন্মই এমন একটি উদ্দেশ্য নিয়ে। তবে ৬২ তে চিন-ভারত যুদ্ধের সময় জেগে ওঠা দেশাত্মবোধের হাওয়ায় এসব ভাবনা কবেই ভেসে গেছে। এই এজেন্ডা ডিঅমকের কাছেও এখন অতীত। তবে হঠাৎ এমন কথা বলতে গেলেন কেন স্ট্যালিন? যে সময় মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় তাঁকে ফোন করছেন তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে আলেচনা করতে। চন্দ্রবাবু নাইডু তৃতীয় ফ্রন্ট নিয়ে যোগাযোগ রাখছেন মমতার সঙ্গে। কে চন্দ্রশেখর রাও, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী দেখা করতে আসছেন সেই মমতার সঙ্গেই। চন্দ্রশেখর, চন্দ্রবাবু এবং স্ট্যালিনের এই মুহুর্তে দুটি কমন ফ্যাক্টর। এক, তাঁরা মনে করছেন ,দিল্লি যে পরিমাণ টাকা দক্ষিণের রাজ্যগুলিকে দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি পায় উত্তরের রাজ্যগুলি। উল্টে দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে কেন্দ্রীয় সরকার অনেক বেশি অর্থ নিয়ে যায়।
কিছুদিন আগে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও কোনও রাখঢাক না করেই বলেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলি যে পরিমাণ কর দেয় তার বিনিময়ে সুযোগ সুবিধা অনেক কম পায়। স্ট্যালিন তার সঙ্গে যোগ করে বলেন, এমন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দক্ষিণের রাজ্যগুলির সংবেদনশীলতা রক্ষার্থে পৃথক রাষ্ট্র দ্রাবিড়নাড়ুর দাবি করা প্রয়োজন।
তাঁদের দ্বিতীয় কমন ফ্যাক্টর, তাঁরা তিন জনেই তৃতীয় ফ্রন্ট নির্মানে মমতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এবং মমতা নিজেও যে কেন্দ্রের অর্থ বন্টনের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের পুরনো ঋণের ব্যাপারে ছাড় চেয়ে বা কয়েক বছরের জন্য সুদ নেওয়া বন্ধ করার দাবি নিয়ে মমতা বহুবার কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছেন, কোনও লাভ হয় নি। তা কি মোদি সরকার বা মনমোহন সরকার।অন্যদিকে, শুক্রবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সীতারামাইয়াও একই সুরে বলেন, উন্নয়নের জন্য উত্তরের রাজ্যগুলি দক্ষিণের রাজ্যগুলির তুলনায় বেশি বরাদ্দ পায়। ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলি জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। কিছুদিন আগেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা রাজ্যের উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে।
এত অবধি সবই ঠিক ছিল, কিন্তু স্ট্যলিনের মন্তব্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে তাঁর মন্তব্য তৃতীয় ফ্রন্টের উদ্দেশ্যর সামনেই প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news