Breaking News
Home / TRENDING / ভোট সারানো হয় রাস্তায়, এক বৃষ্টিতেই সে হেসে ওঠে দাঁত বার ক’রে

ভোট সারানো হয় রাস্তায়, এক বৃষ্টিতেই সে হেসে ওঠে দাঁত বার ক’রে

আরিন্দম বসু :

শুনতে উদ্ভট লাগলেও সত্যি, বঙ্গে বর্ষা এলে যা মনে পড়ে, ভোট এলেও সেই কথা মনে পড়ে আমার! কিন্তু কোন কথা?
মনে পড়ে এক সাম্প্রতিক কবির তিন পংক্তি—‘ভোট সারানো হচ্ছে রাস্তায়/ বড় মুরগি ছোট মুরগির পেটে লাথি মারছে/ হাসছে কসাই।’ কে হাসছে, কেন হাসছে—সে প্রসঙ্গ আপাতত তোলা থাক। কিন্তু ওই প্রথম লাইনে খুব ভুল বলা হয়েছে কি?—রাস্তা না, আদতে যে ভোট সারানো হয় তা বাংলার মানুষের চেয়ে বেশি কে জানে! তাছাড়া বর্ষা এলেই আন্দাজ হয় ‘অপূর্ব’ কাজ করেছে স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা মিউনিসপালিটি, এমনকী শহর কলকাতার কর্পোরেশন পর্যন্ত। তবে ভুল ভাববেন না, বিশ্বাস করুণ খালিপিলি নিন্দে করতে বসিনি। আসলে পেশা সূত্রে ভারতের বহু শহর, গ্রাম ঘুরেছি কিনা। অল্প আদ্দু বিদেশেও…। কিন্তু দিব্যি করে বলছি, কোত্থাও রাস্তাকে হাসতে দেখিনি!
ঠিক যেন বুড়ি ঠাকুমা, দাঁতহীন কপাটি বের করে ভয়ঙ্কর হাসছে। বুক কাঁপিয়ে দেওয়া হাসি! হ্যাঁ, সেই হাসি ডিঙোতে গিয়ে মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা হয় ঠিকই। বেঘোরে প্রাণ যায় মানুষের। তবে ভাঙা রাস্তার উপকারিতাও আছে।
যেমন রাস্তা ভাঙা বলেই ধীর গতিতে সাবধানে এগোয় মানুষ, সাইকেল, দু’চাকা, চার চাকারা। তাছাড়া কোন মহাপুরুষ যেন বলেছেন, ‘হোঁচোট থেকেই জীবন-শিক্ষে…।’ এই মহাবাণী হতে পারত পিডাব্লুডি-র আদর্শ আত্মপ্রচার। ওঁরা মোড়ে মোড়ে এই মর্মে হোর্ডিং ঝোলান না কেন কে জানে! যাক গে, আসল কথা হল—রাস্তার বুরা হাল অনেক সময়েই উপকারি। বাসে, গাড়িতে চেপে কম বয়সিদের তো শুনেছি মজাই লাগে! প্লেনের যুগে ক’জন আর জাহাজে চাপে! সেখানে ভাঙা পথের আশির্বাদে আপনি বাসে বসে জাহাজের আনন্দ নিচ্ছেন বিলকুল ফ্রি। এই মর্মে কণ্ডাক্টার যে দু’দুটো ভাড়া (একটা বাসের, অন্যটা জাহাজের) কড়ায়-গন্ডায় গুণে নেয় না এই ভাগ্যি! অনেকে বলবে, বয়স্কদের হাড়ে হাড়ে ঠোকাঠুকি লাগে, ড্রাইভার দুমদারাক্কা ব্রেক কসলে বেয়াদপ বিপত্তি হয়। মাথা ঠুকে যায়, হাতে পায়ে টান লেগে এমন অবস্থা হয় যে বাস থেকে নেমে অটোর বদলে অ্যাম্বুলেন্সে উঠলেই ভালো! সে কথা ঠিক। কিন্তু বিনামুল্যে এমন এক্সারসাইজের বন্দোবস্ত বাংলার বাইরে পাবেন আপনি? তবে যে কথা হচ্ছিল শুরুতেই, রাস্তা কিন্তু সারানো হয় নিয়মিত।
বর্ষা আসার আগে না হলেও ভোট আসার আগে ক্ষমতায় থাকা নেতা মন্ত্রীদের ঠিক মনে পড়ে—এবার কাজ দেখাতে হবে। না দেখালেই নয়। রাস্তা হয়েও যায়। তড়িৎগতিতে। কিন্তু এক বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতেই বালি উঠে, পিচ, সিমেন্ট ধুয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বড় রাস্তা থেকে কানা গলি। নিন্দুকেরা বলেন, ১০ হাজার বাজেট হলে ঠিকাদার কাজ পাওয়ার জন্য ৫ হাজার ঘুষ দেয় স্থানীয় মেম্বার বা কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন উপর মহলকে। এরপর সে নিজে লাভ রাখে হাজার তিনেক। পড়ে থাকা হাজার দুয়েকে গরিবের রাজপথ গড়ে দেয় রাজা, থুড়ি ঠিকাদার। এবার বলুন, মানুষের এমন কীর্তি দেখে হাসবে না রাস্তা?

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *