নিজস্ব সংবাদদাতা
ঘোড়াও মেধাবী প্রাণী, বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা। সত্যি কি তাই?
রাণাপ্রতাপ আর চেতকের সম্পর্কের কথা সবার জানা। যে কালে রাজারা ঘোড়সওয়ার হত সেকালে তাঁদের একটা করে প্রাইভেট ঘোড়া থাকত। ইতিহাস ও মিথের জগাখিচুড়ি মতে, যাঁর ঘোড়া তাঁর সঙ্গে সেই ঘোড়াটির আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠতে। তবু ‘ঘোড়া একটি প্রভুভক্ত প্রাণী’ জাতীয় বাক্য ছোটবেলায় মুখস্থ করানো হয়নি আমাদের। কিন্তু জাপানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা সে কথাই বলছে।
তাঁদের মতে, ঘোড়া মানুষের মুখ দেখে মন পড়তে পারে, দু’জন মানুষকে আলাদা করে চিনতে পারে, প্রভুর ডাকে উত্তর দেয়, অনুভূতিপ্রবণ প্রাণীটি আনন্দ, দুঃখ, কষ্টের মতো আবেগ প্রকাশ করে মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে এলে। সম্প্রতি জাপানের হক্কাইদো বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
প্রধান দুই গবেষক, অয়াকা তাকিমোতো ও তোশিকাজু হাসেগাওয়া জানিয়েছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতিতে গবেষণা করে তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন, ঘোড়া রীতিমতো মেধাবী প্রাণী। গবেষণায় প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। যেখানে একটি নির্দিষ্ট অনুভূতিতে প্রকাশ পেয়েছে ঘোড়ার আবেগ। গবেষকদের দাবি, একটি ঘোড়াকে তার প্রভুর হাসির ছবি দেখানো হলে সে একরকম ভাব প্রকাশ করেছে, রাগের ছবি দেখালে আরেক রকম ভাব প্রকাশ করেছে। এমনকী গলার স্বরেও সুখ-দুঃখের মতো অনুভূতিকে আলাদা করেছে ঘোড়া।
গবেষক দু’জনের দাবি, এই গবেষণা মানুষের কাছাকাছি থাকা প্রাণীর সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
বলা বাহুল্য, সে কথা সত্যি। কিন্তু এই সত্যি নতুন কিছু না। সভ্যতার উষা-লগ্নে ঘোড়াই ভূপৃষ্ঠের একমাত্র যানবাহন ছিল। গোটা পৃথিবীর ইতিহাস জানে অসংখ্য প্রভু-অন্ত-প্রাণ অশ্বের কাহিনি। যারা বহুবার প্রভুর প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিংবা জ্ঞানহীন আহত প্রভুকে পথ চিনে ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছে। রামায়ণ-মহাভারত আমল থেকে তাই ঘোড়া আর মানুষের সম্পর্ক অকৃত্রিম। তবে গবেষণার মাধ্যমে তা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করা গেল এবার। এও কম কথা না।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustanhttps://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news